Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সমুদ্রের জল থেকে তৈরি জ্বালানি এক হাজার বছরের রসদ যোগাবে

 ‌

Fuel-made-from-sea-water

সমুদ্রের জল থেকে তৈরি জ্বালানি এক হাজার বছরের রসদ যোগাবে

 অজয় মজুমদার 

জ্বালানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে সভ্যতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাবে৷ সেই সমস্যার সমাধান করতে চলেছেন একজন বাঙালি বিজ্ঞানী। তিনি বাঁকুড়া জেলার সুজিতকুমার ঘোষ। ইতিমধ্যেই তাঁর সেই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে রয়েল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রির একটি পত্রিকায়৷ এই আবিষ্কারের জন্য সমস্ত মহলেই হইচই শুরু হয়েছে৷ 

কয়লা পেট্রোলিয়াম শেষ হওয়ার মুখে৷ তেমনিই ভূগর্ভে সঞ্চিত ইউরেনিয়াম একদিন শেষ হয়ে যাবে৷ চিরাচরিত শক্তির জায়গায় পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির গুরুত্ব বেড়েছে। মাটির নিচেই যে ইউরেনিয়াম সঞ্চিত আছে, তা ব্যবহার করে শক্তি তৈরি করলে বড়জোর ১০০ বছর চলতে পারে। তারপর ? সমুদ্রের জলে মিশে থাকা ইউরেনিয়ামে এত শক্তি সঞ্চিত রয়েছে যে, আগামী এক হাজার বছরেও তা শেষ হবে না৷ 

সুজিতবাবু এবং তাঁর সহকর্মীরা তৈরি করেছেন একটি রাসায়নিক যৌগ। যে যৌগ দিয়ে সহজেই ইউরেনিয়াম যৌগ পাওয়া সম্ভব হবে। তাঁরা জানান, ৪৫০ কোটি মেট্রিক টন ইউরেনিয়াম সমুদ্র জলে মিশে থাকে। 

কিন্তু যেহেতু এই ইউরেনিয়াম জলের সঙ্গে মিশে আছে, সেইজন্য তার ঘনত্ব একেবারেই কম রয়েছে। এই গবেষণাপত্রটি লিখেছেন IISER পুনের রসায়ন বিভাগের গবেষক ড: ‌সোমরাজ মল্লিক৷ তিনি ওই বিভাগের অধ্যাপক সুজিত কুমার ঘোষের তত্ত্বাবধানে কাজটি করছেন৷ 

ইউরেনিয়াম পর্যায় সারণির ৯২তম মৌল৷ এটি মূলত তেজস্ক্রিয় এবং নীলাভ সাদা বর্ণের ধাতু। ১৭৮৯ সালে বিজ্ঞানী মার্টিন হাইনরিখ ক্যাপরথ ইউরেনিয়াম আবিষ্কার করেন৷ 

১৮৪১ সালে বিজ্ঞানী ইউরিন পেলিকট ইউরেনিয়াম টেট্রাক্লোরাইড (Ucl4) থেকে প্রথম 'U' সংশ্লেষ করেন। ১৮৬৯ সালে যখন দিমিত্রী মেন্ডেলিভ পর্যায় সারণী আবিষ্কার করেন তখন 'U' সবচেয়ে ভারী মৌল হিসাবে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। 

১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। ইউরেনিয়াম যখন পরিশোধন করা হয়, তখন এর বর্ণ থাকে সোনালী সাদা। প্রকৃতিতে থাকে দুর্বল তেজস্ক্রিয় মৌল ধরনের, যা ষ্টীল থেকে কিছুটা নরম। ইউরেনিয়াম উচ্চ ঘনত্বের মৌল৷ ইউরেনিয়ামের দুটি আইসোটোপ আছে৷ যথা–   ১ # ইউরেনিয়াম ২৩৫, ২ # ইউরেনিয়াম ২৩৮‌। 

ইউরেনিরাম প্রাকৃতিকভাবে মাটির শিলা এবং জলে প্রতি মিলিয়নে কয়েক অংশের কম ঘনত্ব ঘটে৷ বাণিজ্যিকভাবে ইউরেনিয়াম বহনকারী খনিজ যেমন ইউরানিনাইট থেকে বের করা হয়৷ ইউরেনিয়াম ২৩৫ হল একমাত্র প্রাকৃতিকভাবে ঘটে যাওয়া ফিসাইল আইসোটোপ৷ 

এটিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পারমাণবিক অস্ত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। ইউরেনিয়াম ২৩৮ গতি শক্তি অনুপ্রবেশকারী এবং আরমার প্লেটিং এ ব্যবহার হয়৷ ইউরেনিয়াম রঞ্জক হিসাবেও ব্যবহৃত হয়৷ 



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন