Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

Sunday, 19 December 2021

Tour : উত্তরবঙ্গের অরণ্য জৌলুস হারাচ্ছে (‌পর্ব–১)‌

Forests-of-North-Bengal

 ‌উত্তরবঙ্গের অরণ্য জৌলুস হারাচ্ছে (‌পর্ব–১)‌

অজয় মজুমদার

মার্চ মাসে গরুমারা, ঝালং, ঝান্ডি, লাভা, রিশপ, ডুয়ার্স অঞ্চলগুলিতে ভ্রমনে গিয়েছিলাম৷ তখন গরুমারা অরণ্য সাফারিতে গেয়ে নিরাশ হয়েছিলাম। কিছু বাইসন এবং কিছু ময়ূর ছাড়া কিছুই চোখে পড়েনি৷ নভেম্বরে উত্তরবঙ্গের অন্য অঞ্চলগুলিতে এসেছি৷ মালবাজার জংশন স্টেশনে নেমে আমরা জয়ন্তী এলাম৷ জয়ন্তী যাওয়ার সময় চাপড়ামারি জঙ্গল, বানারহাট, বীরপাড়া, মাদারিহাট, হাসিমারা, নিমতি-র জঙ্গল পার হয়ে আসতে হল। আড়াই ঘন্টা সময় লেগেছিল৷ তবে বেশ ভালোভাবে উপভোগ করলাম। পৌঁছলাম জয়ন্তী নদীর ধারে৷ 


চার বছর আগে একবার এখানে এসেছিলাম৷ তখন কিন্তু নদীর তীরে এই হোম স্টেগুলি তৈরি হয়নি। অরণ্য মানুষের আসা যাওয়া বেড়ে যাওয়ায় হোম স্টে-র সংখ্যা বেড়েছে৷ সরকার হোম স্টে করবার জন্য উৎসাহিত করছে৷ জয়ন্তী কোনও হোটেল বা রিসর্ট নেই৷ সবই হোম স্টে| হোম স্টে হলে কি হবে, হোটেলের মতো সুযোগ-সুবিধা৷ জয়ন্তীতে আমাদের হোম স্টে–র নাম ছিল মোহনচূড়া৷ দুটো জোড়া কাঠ ও টিনের দোতলা বাড়ি৷ সামনেই রুক্ষ জয়ন্তী নদী৷ বোঝাই যায়, এই নদীর যৌবনটা ছিল ভয়ঙ্কর৷ এপারে ভারত, ওপারে ভুটান পাহাড়। 


পরের দিন সকালে বক্সা ফোর্ট দেখতে গেলাম৷ খুব সুন্দর আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা। কিন্তু সুখ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না৷ আমাদের গাড়িকে ছেড়ে দিতে হলো৷ বক্সারে সেখানকার নিজস্ব গাড়িতে চড়তে হল। এটাও ভ্রমনবিলাসীদের পকেট কেটে বেকার সমস্যা সমাধানের একটা চেষ্টা। ফোর্টে যাওয়ার রাস্তা পর্যন্ত গাড়ি পৌঁছে দিলো। জনপ্রতি ২০০ টাকা৷ তবে ওই টাকাতেই যেকোনও গাড়িতেই ঘোরা যায়। ওখান থেকে হেঁটে যেতে হয়৷ প্রথম আধ কিলোমিটার রাস্তা খুবই খারাপ। বয়স্কদের পক্ষে অতিক্রম করা কঠিন হয়ে পড়ে৷ 


বক্সা জাতীয় উদ্যান ৮৬৭ মিটার বা ২৮৪৪ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। অনেকই কাছের ভিউপয়েন্ট পর্যন্ত যাচ্ছে। নিকটবর্তী জেলা শহর আলিপুরদুয়ার৷ এখান থেকে দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার৷ ভারত এবং তিব্বতের মধ্যে যে রেশম বাণিজ্যপথটি ভুটানের মধ্য দিয়ে যেত, সেটির একাংশ রক্ষার জন্য ভুটান রাজারা এই দুর্গটি ব্যবহার করতেন৷ চীন ১৯৫০ সালে তিব্বত দখল করে নিলে, বহু শরণার্থী এই অঞ্চলে চলে আসেন। এই সময় পরিত্যক্ত দুর্গটি শরণার্থী আশ্রয় শিবির হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল৷



 


No comments:

Post a Comment