Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

শচীনের আদর্শে ক্রিকেটে আসা, আজ তাঁরই একের পর এক রেকর্ড ভাঙছেন বিরাট!

 ‌

Virat-is-breaking-records

সমকালীন প্রতিবেদন : ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হওয়ার। আর সেই স্বপ্নের নেপথ্যে ছিলেন ক্রিকেটের ঈশ্বর শচীন তেণ্ডুলকর। শচীনকে আদর্শ করেই ব্যাট হাতে ক্রিকেটের ময়দানে নিজেকে তৈরি করেছিলেন বিরাট কোহলি। সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্নের পথ ধরেই বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার হয়ে উঠেছেন তিনি। ৩৮তম জন্মদিনে দাঁড়িয়ে পিছনে ফিরে তাকালে বিরাটের নিজেরই হয়তো অবাক লাগবে। যে ক্রিকেটারকে দেখে একদিন ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কেরিয়ারের দীর্ঘ পথচলায় সেই আদর্শেরই একের পর এক অবিস্মরণীয় রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনি। তবে এখানেই শেষ নয়। এখনও বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক নজির হাতছানি দিচ্ছে কিং কোহলিকে।

বিরাটের রেকর্ড ভাঙার তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবশ্যই একদিনের ক্রিকেটে শতরানের সংখ্যা। ওয়ানডেতে ৪৯টি সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন শচীন। দীর্ঘদিন অক্ষত ছিল সেই নজির। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে শচীনের রেকর্ড স্পর্শ করেন বিরাট। এরপর মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজের ৫০তম ওয়ানডে শতরান করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান তিনি। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং শচীন। নিজের আদর্শের সামনেই তাঁর রেকর্ড ভাঙার মুহূর্তটি বিরাটের কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক রান সংগ্রহের নজিরও এখন বিরাটের দখলে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে ১১টি ম্যাচে ৬৭৩ রান করেছিলেন শচীন। কিন্তু ২০২৩ বিশ্বকাপে দুরন্ত ফর্মে থাকা বিরাট তিনটি শতরান-সহ মোট ৭৬৫ রান করে সেই রেকর্ড নতুন করে লেখেন। যদিও ব্যক্তিগত সাফল্যের পরেও বিশ্বকাপের ট্রফি অধরাই থেকে যায় দু’জনের কাছে।

ওয়ানডেতে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে বিভিন্ন রানসংখ্যার মাইলফলক স্পর্শ করার ক্ষেত্রেও শচীনকে পিছনে ফেলেছেন বিরাট। ১০ হাজার রানে পৌঁছতে শচীনের প্রয়োজন হয়েছিল ২৫৯টি ইনিংস। সেখানে মাত্র ২০৫ ইনিংসেই সেই কৃতিত্ব অর্জন করেন কোহলি। একইভাবে ১৩ হাজার এবং ১৫ হাজার রানের গণ্ডি পেরোতেও শচীনের তুলনায় যথাক্রমে ৫৪ ও ৭৪টি ইনিংস কম খেলেছেন তিনি।

রান তাড়া করার ক্ষেত্রেও বিরাটের ধারেকাছে খুব কম ব্যাটারই রয়েছেন। এই কারণেই ক্রিকেটমহলে তাঁর পরিচিতি ‘চেজমাস্টার’। ওয়ানডেতে রান তাড়া করতে নেমে শচীন করেছিলেন ৮৭২০ রান। বিরাট জন্মদিনের ঠিক আগের দিনই সেই নজির ভেঙে দেন। বর্তমানে তাঁর সংগ্রহ ৮৭৫১ রান। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শচীন যেখানে ২৩২ ইনিংসে এই রান করেছিলেন, সেখানে বিরাটের লেগেছে মাত্র ১৬৯টি ইনিংস।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও দ্রুততম ২৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বিরাট। মাত্র ৫৪৯ ইনিংসে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। শচীনের লেগেছিল ৫৭৭ ইনিংস। এমনকী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৮ হাজার রান পূর্ণ করার ক্ষেত্রেও শচীনের তুলনায় ২০টি ইনিংস কম খেলেছেন কোহলি।

তবে সব রেকর্ড ভাঙা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ায় শচীনের ৫১টি টেস্ট শতরান কিংবা ১৫,৯২১ রানের নজির টপকানোর সুযোগ আর নেই বিরাটের সামনে। শচীনের ২০০টি টেস্ট খেলার কৃতিত্বও তাঁর নাগালের বাইরে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকেও অবসর নিয়েছেন তিনি। ফলে কেরিয়ারের পরিসর এখন অনেকটাই সীমিত।

তবুও স্বপ্ন দেখার মতো কিছু মাইলফলক রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শচীনের ১০০টি শতরানের রেকর্ডের বিপরীতে বিরাটের সংগ্রহ এখন ৮৬টি। পাশাপাশি দেশের মাটিতে সর্বাধিক শতরানের নজিরও হাতছানি দিচ্ছে তাঁকে। ঘরের মাঠে শচীনের শতরান ছিল ৪২টি, বিরাটের ঝুলিতে রয়েছে ৪০টি। ফলে আগামী দিনে আরও কিছু রেকর্ড ভাঙার সুযোগ থাকছেই। শচীনকে দেখে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই যাত্রাতেই আজ ইতিহাসের পর ইতিহাস লিখছেন বিরাট। এখন দেখার, জন্মদিনের পরের বছরগুলোতে আরও কত নতুন নজির নিজের নামে করেন এই কিংবদন্তি ব্যাটার।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন