সমকালীন প্রতিবেদন : ভুয়ো চিকিৎসককাণ্ড সামনে আসার পর রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। এবার রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে নথিভুক্ত সমস্ত চিকিৎসকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হবে। শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার চিকিৎসকের নাম মেডিক্যাল কাউন্সিলে নথিভুক্ত রয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের ডিগ্রি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়া মান্যতাপত্র নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় কোনও চিকিৎসককে অযথা হয়রানি করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ভুয়ো চিকিৎসকের ডিগ্রি সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের অন্দরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কাউন্সিলের সভাপতি, সহ-সভাপতি, প্রাক্তন রেজিস্ট্রার, বিধায়ক-সদস্য-সহ কয়েক জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য দফতর এবং মেডিক্যাল কাউন্সিলের মধ্যে বৈঠকের পর চিকিৎসকদের নথি পুনরায় যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত কাউন্সিলে নথিভুক্ত চিকিৎসকদের তথ্য এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনেকটা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার আদলে চিকিৎসকদের পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাই করা হবে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘নো ইওর ডক্টর’ বা কেওয়াইডি। এই কাজ দু’ভাবে সম্পন্ন হবে। প্রথমত, চিকিৎসকেরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারবেন।
দ্বিতীয়ত, বয়স, অসুস্থতা কিংবা দূরত্বের কারণে যাঁদের পক্ষে আসা সম্ভব নয়, তাঁদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে। এই কাজে একটি বেসরকারি সংস্থার সাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি, মৃত চিকিৎসক, বিদেশে চলে যাওয়া ব্যক্তি কিংবা যাঁরা বর্তমানে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের নামও নথিভুক্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে, মেডিক্যাল কাউন্সিলের দেওয়া রেজিস্ট্রেশন শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শংসাপত্রে পাঁচ বছরের মেয়াদ উল্লেখ করার কোনও স্পষ্ট আইনি ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, নতুন নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত রেজিস্ট্রেশন বৈধ থাকবে। কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায় অবশ্য জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের তথ্য নিয়মিত যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই পাঁচ বছর অন্তর শংসাপত্র পুনর্নবীকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন