Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

ডিসেম্বরের মধ্যে মতুয়াদের হাতে ‌সিএএ শংসাপত্র, ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ রাজ্য সরকারের

 

CM-at-Thakurnagar

সমকালীন প্রতিবেদন : মতুয়া সমাজের নাগরিকত্বের দাবি পূরণে নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন-এর আওতায় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানি শেষ করে যোগ্য আবেদনকারীদের হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে বলে জানালেন তিনি। পাশাপাশি, শংসাপত্র পাওয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মতুয়া নাগরিকদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও রাজ্য প্রশাসন সবরকম সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দিয়ে এই ঘোষণা করেন তিনি।

এদিন সম্মেলনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিএএ সংক্রান্ত আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে নবান্নে রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই, শুনানি এবং শংসাপত্র প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদনকারীর ফাইল নিষ্পত্তির কাজ চলছে। শুভেন্দুর আশ্বাস, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে। ফলে নাগরিকত্ব নিয়ে মতুয়া সমাজের কাউকে আর উদ্বিগ্ন হতে হবে না।

সম্প্রতি ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথির অভাবে বহু মতুয়ার নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই বিষয়টি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী জানুয়ারি মাসে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হলে সিএএ-র শংসাপত্র পাওয়া ব্যক্তিদের নাম পুনরায় নথিভুক্ত করার জন্য সরকার উদ্যোগী হবে। যাঁরা নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাবেন, তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অন্যান্য সহযোগিতা করবে।

শুধু ভোটার তালিকায় নাম তোলাই নয়, নাগরিকত্ব পাওয়ার পর মতুয়ারা যাতে সরকারি সামাজিক প্রকল্প ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখবে রাজ্য সরকার। এই সংক্রান্ত কাজের সমন্বয়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে একজন নির্দিষ্ট আধিকারিক দায়িত্বে থাকবেন বলেও জানান শুভেন্দু।

এদিনের সম্মেলনে বিরোধীদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার সিএএ নিয়ে মতুয়া সমাজের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল এবং নাগরিকত্বের দাবিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। সেই কারণেই মানুষ গণতান্ত্রিকভাবে তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, রাজ্যের একটা বড় অংশের মতুয়া অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ তুলে এই সম্প্রদায়ের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দেন।

নাগরিকত্বের পাশাপাশি মতুয়া সমাজের সার্বিক উন্নয়নের জন্যও একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মতুয়া বোর্ড পুনর্গঠন করে চলতি অর্থবর্ষে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এই অর্থে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়ন এবং গোঁসাই সমাজের কল্যাণে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালকে ১৫ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা এবং ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভায় রূপান্তরিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মতুয়া ধর্মমেলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল আমলে এই মেলা এবং ঠাকুরবাড়িকে রাজনৈতিক স্বার্থে বিভাজিত করে রাখা হয়েছিল। এখন আর সেটি হবে না। একত্রিতভাবে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে এবং রাজ্য সরকার এই মেলাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে আর্ন্তজাতিকস্তরের মেলায় পরিনত করবে। তিনি বলেন, একবার আমরা উদ্বাস্তু হয়েছি। আর হবো না। দেশকে, রাজ্যকে ভাগ হতে দেব না। অস্থিরতা বরদাস্ত করবো না। হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবো।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন