সমকালীন প্রতিবেদন : রবিবার দুপুরে মতুয়াদের পীঠস্থান ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে আয়োজিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের সম্মেলনের পর ঠাকুরবাড়িতে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তিনি। ভোজের আয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য পরিবেশন করা হয় ঠাকুরবাড়ির বিশেষ ঐতিহ্যবাহী পদ 'চিংড়ি পিঠে', যা খেয়ে অত্যন্ত তৃপ্তি প্রকাশ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর আপ্যায়নে যেন কোনো ত্রুটি না থাকে, তার জন্য ভোর ৫টা থেকেই রান্নাঘরে শুরু হয়ে গিয়েছিল জোরদার প্রস্তুতি। রান্নায় সরাসরি হাত লাগিয়েছিলেন শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী তথা বাগদার বিধায়ক সোমা ঠাকুর।
এদিনের মধ্যাহ্নভোজে মুখ্যমন্ত্রীর পাতের তালিকায় ছিল বৈচিত্র্যময় বাঙালি পদ। শুরুতে সাদা ভাত, উচ্ছে ভাজা, বেগুন ভাজা ও ভেজ ডাল। মাছ ও মাংসের পদে ছিল ঠাকুরবাড়ির বিশেষ পদ 'চিংড়ি পিঠে', পমফ্রেট মাছ, চিংড়ির মালাইকারি, মৌরোলা মাছের ঝাল, ইলিশ ভাপা, ইলিশ ভাজা, চিংড়ি দিয়ে মোচা, খাঁটি দেশি মুরগির ঝোল এবং খাসির মাংস। ছিল চাটনি, পাঁপড়। শেষপাতে ছিল দই ও মিষ্টি।
সোমা ঠাকুর আবেগপ্লুত হয়ে জানান, "মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবার তিনি ঠাকুরবাড়িতে এসে আমাদের আতিথ্য গ্রহণ করলেন। নিজের হাতে রান্না করে তাঁকে খাওয়াতে পেরে আমি সত্যিই আপ্লুত।"
তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সাধারণ মানুষের মতো সহজ-সরল ঘরোয়া খাবার পছন্দ করে খেয়েছেন। মাংসের পদের চেয়ে মৌরোলা মাছের ঝালের মতো হালকা মাছের পদই তাঁর বেশি মন কেড়েছে। বিশেষ করে ঠাকুরবাড়ির বিশেষ আকর্ষণ—চিংড়ি মাছের তৈরি পিঠেটি খেয়ে তিনি অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন। সোমা ঠাকুরের মতে, বহু জায়গায় নানা ধরনের খাবার খেলেও ঠাকুরবাড়ির এই অনন্য স্বাদটি সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সম্পূর্ণ নতুন এবং অতুলনীয় লেগেছে।
খাবার টেবিলে বসার আগে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের কাছে বলেন, "এই ঠাকুরবাড়িতে আমি এর আগে অন্তত পাঁচ বার এসেছি। তবে আগের সফরগুলিতে ফল, ব্ল্যাক কফি কিংবা মিষ্টির মতো হালকা খাবার খেলেও, এই প্রথমবার এখানে অন্নগ্রহণ করছি। তাও আবার সোমার নিজের হাতে তৈরি রান্না।"
সোমা ঠাকুরের প্রশংসা করে তিনি আরও যোগ করেন, "সোমা কেবল শান্তনুর সহধর্মিণী কিংবা মতুয়া মহাসংঘের সভানেত্রী নন, তিনি আমার একজন জনপ্রতিনিধি সহকর্মী। একজন বিধায়ক নিজে হাতে রান্না করে মুখ্যমন্ত্রীকে খাওয়াচ্ছেন, এটি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার কাছে এক পরম পাওনা ও সম্মানের বিষয়। একজন সাধারণ বাঙালি হিসেবে দৈনন্দিন যে খাবার আমরা খাই, আজ সেটাই পরম আনন্দে উপভোগ করব।"








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন