সমকালীন প্রতিবেদন : শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে তিন দিন ধরে চলা অচলাবস্থার অবশেষে অবসান ঘটল পেট্রাপোল স্থলবন্দরে। বুধবার শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে জটিলতা মিটে যাওয়ার পর ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করল বন্দরের কাজকর্ম। শুরু হয়েছে লোডিং ও আনলোডিংয়ের কাজ। টানা তিন দিন কাজ বন্ধ থাকায় বন্দরে আটকে থাকা পণ্যবাহী গাড়িগুলির চলাচল নিয়েও তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন শ্রমিক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে।
জানা গেছে, গত ১ তারিখ থেকে পেট্রাপোল বন্দরে শ্রমিকদের কাজের ভাগাভাগি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি এবং পাল্টা দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় মতবিরোধ। সেই বিরোধ ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করায় বন্ধ হয়ে যায় বন্দরের লোডিং ও আনলোডিংয়ের কাজ। ফলে পেট্রাপোল বন্দরের স্বাভাবিক কর্মপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে। টানা তিন দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে আসা একাধিক পণ্যবোঝাই গাড়ি বন্দরের মধ্যে আটকে পড়ে।
পেট্রাপোল স্থলবন্দর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই বন্দরের মাধ্যমে প্রতিদিন দুই দেশের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করা হয়। ফলে বন্দরে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আটকে থাকা গাড়িগুলির পণ্য খালাস এবং পরবর্তী পরিবহণ নিয়েও তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা।
অবশেষে বুধবার শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হয়। নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার পর কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন শ্রমিকরা। শুরু হয় পণ্য ওঠানো ও নামানোর কাজ। তিন দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে বন্দরে কাজ শুরু হওয়ায় খুশি শ্রমিকরাও।
শ্রমিকদের বক্তব্য, কাজের ভাগাভাগি নিয়ে তাঁদের দাবি ছিল। সেই দাবি ঘিরেই সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে আলোচনার মাধ্যমে বুধবার জটিলতা মিটে যাওয়ায় তাঁরা ফের কাজে ফিরেছেন। এখন আবার স্বাভাবিকভাবে কাজ চলবে বলেই আশা করছেন শ্রমিকরা।
তিন দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে পেট্রাপোল বন্দরে কাজ শুরু হওয়ায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে। তবে ভবিষ্যতে যাতে শ্রমিকদের কাজের ভাগাভাগি নিয়ে নতুন করে কোনও সমস্যা তৈরি না হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন