সমকালীন প্রতিবেদন : বাড়ির ফ্রিজের ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে বিষধর সাপ! সন্ধ্যারাতে এমন দৃশ্য সামনে আসতেই আতঙ্কে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সামান্য অসাবধানতায় ঘটে যেতে পারত বড়সড় দুর্ঘটনা। তবে সময়মতো বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীকে খবর দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ফ্রিজের ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া সাপটি বিষধর কমন ক্রেইট বা কালচিত বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি গাইঘাটা থানার অন্তর্গত বকচরা এলাকার একটি বাড়ির। বাড়ির দোতলায় রাখা ফ্রিজের পেছনে সাপটিকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। আচমকা ফ্রিজের পেছনে জল জমার পাত্রে সাপের উপস্থিতি নজরে আসতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাড়িতে। কীভাবে সাপটি সেখানে ঢুকল, তা বুঝে উঠতে পারেননি পরিবারের লোকজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীকে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান সাপ উদ্ধারকারী বাপ্পা সাহা। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তিনি ফ্রিজের পেছন থেকে সাপটিকে উদ্ধার করেন। পরে সাপটি কালচিত বা কমন ক্রেইট বলে শনাক্ত করা হয়। উদ্ধারকারীর তৎপরতায় স্বস্তি ফেরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। পাশাপাশি, সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা থেকে রেহাই পান বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও।
উদ্ধারকারী বাপ্পা সাহার অনুমান, আশপাশের গাছপালা কিংবা দেওয়াল বেয়ে সাপটি বাড়ির দোতলায় উঠে এসে কোনওভাবে ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। পরে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ফ্রিজের পেছনের পাত্রে লুকিয়ে থাকতে পারে সেটি। যদিও সাপটি ঠিক কীভাবে সেখানে পৌঁছাল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কমন ক্রেইট বা কালচিত অত্যন্ত বিষধর সাপ। সাধারণত রাতে এরা বেশি সক্রিয় থাকে। তাই রাতের অন্ধকারে বাড়ির আশপাশে চলাফেরা করার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড়, জমে থাকা আবর্জনা কিংবা ইঁদুরের উপদ্রব থাকলে সাপের আনাগোনার আশঙ্কা বাড়তে পারে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন