সমকালীন প্রতিবেদন : শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। এবার থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) মাধ্যমে নতুন করে যাঁরা শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হবেন, তাঁরা প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। পঞ্চায়েত, পুরসভা থেকে শুরু করে বিধানসভা কিংবা লোকসভা– কোনও নির্বাচনেই প্রার্থী হতে পারবেন না তাঁরা। বুধবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন নিয়োগের শর্তের মধ্যেই এই বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে ইতিমধ্যে যাঁরা শিক্ষকতার চাকরিতে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বুধবারের ক্যাবিনেট বৈঠকে কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৪৫ হাজার পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এ দিনের বৈঠকে আরও প্রায় ১২০০টি নতুন পদ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রায় ৬০ হাজার পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি রাজ্য সরকারের।
তবে এ দিনের বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, অন্যান্য রাজ্যেও শিক্ষকরা সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নেন না। সেই ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পশ্চিমবঙ্গেও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য এই শর্ত চালু করা হচ্ছে। এতদিন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার-পোষিত স্কুলের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এমন স্পষ্ট বিধিনিষেধ ছিল না। ফলে তাঁদের কেউ কেউ নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁরা ইতিমধ্যে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন এবং পঞ্চায়েত বা পুরসভার জনপ্রতিনিধি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পদে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। কারণ, তাঁদের নিয়োগের সময় এমন কোনও শর্ত ছিল না। ভবিষ্যতে যাঁরা নতুন করে নিয়োগপত্র পাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই এই বিধান কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষক মহলের একাংশ। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারীর বক্তব্য, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা কতটা যুক্তিসংগত, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর প্রশ্ন, শিক্ষকদের প্রতিবাদ ও পেশাগত দাবি-দাওয়া তোলার অধিকারও কি এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রভাবিত হবে?
এদিকে, একই ক্যাবিনেট বৈঠকে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতিতেও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৫ নভেম্বর নবান্ন সভাঘর থেকে শিল্পনীতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করার কথা। বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পস্থাপনে উৎসাহ এবং জমি সংক্রান্ত নীতিতে কী কী পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন