সমকালীন প্রতিবেদন : পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে ফের মর্মান্তিক পরিণতি এক পর্যটকের। সান্দাকফু সংলগ্ন টুমলিঙে শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হল উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সি বুবাই পালের। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সান্দাকফু এলাকায় পরপর দুজন পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় পাহাড়ি অঞ্চলের চিকিৎসা পরিকাঠামো ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় স্বাস্থ্যপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি তুলেছে পর্যটন সংস্থাগুলি।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গত ১৮ অক্টোবর নিউ জলপাইগুড়ি থেকে মানেভঞ্জনে পৌঁছেছিলেন বুবাই পাল। পরদিন সান্দাকফুতে রাত্রিবাসের পর ২০ অক্টোবর তাঁরা টুমলিঙের একটি হোম-স্টেতে ওঠেন। ওই দিন রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে ঘুমোতে যাওয়ার সময় রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আচমকা শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তাঁর। দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সিঙ্গালীলা ল্যান্ড রোভার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় তাঁকে প্রথমে মানেভঞ্জন এবং পরে সুখিয়াপোখরি গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য দার্জিলিং সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। দার্জিলিঙের জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিকের জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং বারাসতে ফেরার ব্যবস্থাও প্রশাসনের তরফে করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সান্দাকফুর কাছে আহালদাড়া এলাকায় শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়েছিল কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বাসিন্দা প্রিয়তোষ অধিকারীর। তাঁর বয়স ছিল ২৮ বছর। পরপর এমন ঘটনায় পর্যটকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক তন্ময় গোস্বামীর বক্তব্য, সান্দাকফু মূলত ট্রেকিংয়ের জন্য পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে অনেক পর্যটক অল্প সময়ে গাড়িতে চেপেই সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, সমতল থেকে হঠাৎ অনেক উঁচুতে পৌঁছে গেলে শরীর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায় না। তাই ধাপে ধাপে উচ্চতায় ওঠা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
পর্যটন মহলের দাবি, অমরনাথ যাত্রার মতো সান্দাকফু ভ্রমণের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হোক। পাশাপাশি পাহাড়ি রুটে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স, অক্সিজেন এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক উদ্যোগ ও পর্যটকদের সচেতনতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন