Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ, ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’! ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস বাংলায়

 

Cyclone-Arnab

সমকালীন প্রতিবেদন : বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ। অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে আগামী সোমবারের মধ্যেই তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। তবে এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

আগামী মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি শুরু হতে পারে। বুধবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করছে। শনিবার সকালে সেটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এরপর শনিবারই আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপের শক্তি বাড়তে পারে। 

রবিবার গভীর নিম্নচাপ এবং সোমবার সকালে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে শক্তি বাড়িয়ে সেটি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোতে পারে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, তীব্রতা এবং আছড়ে পড়ার নির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত পূর্বাভাসের জন্য নজর রাখতে হবে আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী বুলেটিনের দিকে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী ২৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও কলকাতাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলবর্তী কয়েকটি জেলায় বজ্রপাতের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

২৮ অক্টোবর, বুধবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। অন্যান্য জেলাতেও বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবরও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। মালদা ও দুই দিনাজপুরেও ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার থেকে বৃষ্টির দাপট ধীরে ধীরে কমতে পারে।

এদিকে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের কথা মাথায় রেখে মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা হয়েছে। ২৬ অক্টোবর থেকে মধ্য ও উত্তর বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ উপকূলেও ২৭ অক্টোবর থেকে সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। গভীর সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা থাকায় উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন