সমকালীন প্রতিবেদন : দুর্গাপুজোর শেষ পর্বে প্রতিমা নিরঞ্জনকে ঘিরে বনগাঁয় এবার একাধিক নিয়মে পরিবর্তন আনল প্রশাসন। এ বছর বনগাঁয় কোনও প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রেও পুরনো পদ্ধতির পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী, আজ থেকেই শুরু হয়েছে প্রতিমা নিরঞ্জনের কাজ। আগামী ২৪ তারিখের মধ্যে সমস্ত প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের জেরে এবার নিরঞ্জন পর্বে বনগাঁয় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ছবি।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বড় প্রতিমাগুলি নিরঞ্জন করতে হবে ইছামতী নদীর মিলনপল্লির ঘাটে। অন্যদিকে, ছোট প্রতিমাগুলির নিরঞ্জনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে বনগাঁ থানার ঘাট-সহ আশপাশের অন্যান্য ঘাট। নিরঞ্জন প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠুভাবে এবং নিরাপদে সম্পন্ন করা যায়, সেই লক্ষ্যেই ঘাটভিত্তিক এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমস্ত পুজো কমিটিকে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবার প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বনগাঁ পুরসভা। বনগাঁ পুরসভার প্রধান দিলীপ মজুমদার জানিয়েছেন, প্রতিমা নিরঞ্জনের সুবিধার জন্য থানার ঘাটকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিমা নিয়ে আসা থেকে শুরু করে নিরঞ্জনের কাজ সম্পন্ন করা পর্যন্ত যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে দিকেও নজর রাখা হয়েছে। কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলিতে প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে যে ধরনের ব্যবস্থা দেখা যায়, তার আদলে বনগাঁর থানার ঘাটেও ট্রলির সাহায্যে প্রতিমা নিরঞ্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এতদিন নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে ক্রেনের ব্যবহার দেখা গেলেও, এবার সেই পদ্ধতির পরিবর্তে ট্রলিতে প্রতিমা বসিয়ে নদীতে নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুরসভা। ঘাটে প্রতিমা নিয়ে আসা এবং নিরঞ্জনের সময় যাতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সুবিধা হয়, সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরসভার তরফে নিরঞ্জনের যাবতীয় কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী ও সহায়তাকারীদের নিযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর থেকেই বনগাঁর থানার ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের কাজ শুরু হয়ে যায়। নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে ঘাটে উপস্থিত হন পুজো কমিটির সদস্য, দর্শনার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্গাপুজোর শেষ মুহূর্তে ঘাটে ঘাটে দেখা যায় আবেগঘন পরিবেশ। নিরঞ্জনের আগে ঘাটেই সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন মহিলারা। একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান তাঁরা। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি বিজয়ার বিষাদের আবহও ধরা পড়ে ঘাটের পরিবেশে।
প্রতিমা নিরঞ্জনের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদেরও কাজে লাগানো হয়েছে। পুরসভার উদ্যোগে সুন্দরবন এলাকা থেকে ৪০ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী-সহ মোট ৮০ জনকে নিরঞ্জনের কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের সহযোগিতায় প্রতিমা নিরঞ্জনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। বড় প্রতিমা থেকে ছোট প্রতিমা– সব ক্ষেত্রেই নির্ধারিত ঘাট ও প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে কাজ সম্পন্ন করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সর্বপরি, বনগাঁয় এ বছর প্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে বদলে গিয়েছে চেনা ছবি। শোভাযাত্রা ছাড়াই নির্দিষ্ট ঘাটে প্রতিমা নিয়ে গিয়ে নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। আগামী ২৪ তারিখের মধ্যে সমস্ত প্রতিমা নিরঞ্জনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নতুন পদ্ধতি, নির্দিষ্ট ঘাট এবং প্রশিক্ষিত কর্মীদের সাহায্যে পুরো প্রক্রিয়া কতটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, এখন সেদিকেই নজর বনগাঁবাসীর।










কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন