সমকালীন প্রতিবেদন : আইডিবিআই ব্যাঙ্কের মালিকানা হস্তান্তরের পথে আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ফলে কানাডার আর্থিক সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ডিংসের একটি শাখার কাছে ব্যাঙ্কটির ৬০.৭২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ার বিক্রির পথ প্রশস্ত হয়েছে। এই লেনদেনের মূল্য ধার্য করা হয়েছে ৫২,৮৭৮ কোটি টাকা। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আইডিবিআই ব্যাঙ্কের কৌশলগত বিলগ্নিকরণে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ব্যাঙ্কটির পরিচালন নিয়ন্ত্রণও নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারতের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে এই লেনদেনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের আর্থিক ক্ষেত্রে বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগের নজিরও তৈরি হতে চলেছে।
একসময় দেশের অন্যতম বড় ব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত ছিল আইডিবিআই ব্যাঙ্ক। কিন্তু আর্থিক সমস্যার জেরে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ব্যাঙ্কটির নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসে। সেই সময় লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া ব্যাঙ্কটির সিংহভাগ অংশীদারিত্ব অধিগ্রহণ করে। এর ফলে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের মালিকানা ও পরিচালন কাঠামোয় পরিবর্তন ঘটে।
বিলগ্নিকরণের আগে এলআইসি-র হাতে ছিল ব্যাঙ্কটির ৪৯.২৪ শতাংশ শেয়ার। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ছিল ৪৫.৪৮ শতাংশ অংশীদারিত্ব। এবার সরকার ও এলআইসি নিজেদের শেয়ারের একটি বড় অংশ বিক্রি করতে চলেছে। তবে লেনদেনের পরও উভয়ের হাতে সম্মিলিতভাবে ৩৪ শতাংশ সংখ্যালঘু অংশীদারিত্ব থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রস্তাবিত চুক্তিতে শেয়ার-পিছু ৮১ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। লেনদেনের আগে আর্থিক ও প্রশাসনিক দিক খতিয়ে দেখার পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নতুন মালিকের অংশীদারিত্ব যাতে দেশের ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, সেই বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফেয়ারফ্যাক্সের প্রবেশে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ব্যবসা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং পরিচালন ব্যবস্থায় আধুনিকীকরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাঙ্কের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নতুন বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
অন্যদিকে, সরকার ও এলআইসি-র হাতে ৩৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব থেকে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ব্যাঙ্কটির মূল্যবৃদ্ধির সুফল পাওয়ার সুযোগও থাকবে। তবে লেনদেনের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে বাকি আনুষ্ঠানিকতা ও শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার উপর।
আইডিবিআই ব্যাঙ্কের এই বিলগ্নিকরণ ভারতের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে বেসরকারি মূলধনের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি কেন্দ্রের বিলগ্নিকরণ নীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন