সমকালীন প্রতিবেদন : অনলাইন লেনদেনে অতিরিক্ত ফি বসানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) চালুর যে পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকার করেছিল, আপাতত তা স্থগিত করার পথে মোদি সরকার। সূত্রের খবর, দেশজুড়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় ১৫ অক্টোবর থেকে প্রস্তাবিত এই ফি কার্যকর নাও হতে পারে।
‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’-এর সংশোধনী বাদল অধিবেশনেই পাশ হয়েছিল। সেই সংশোধনীর মাধ্যমে অনলাইন আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে ফি নেওয়ার পথ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ এমডিআর ধার্য করা হবে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের উপরেই চাপবে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সংস্থাগুলি ভারতের এমডিআরমুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিরোধিতা করে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, সেই চাপের কাছেই কেন্দ্র নতিস্বীকার করেছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, এমডিআর চালু হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত খরচের বোঝা ক্রেতাদের উপর চাপিয়ে দিতে পারেন। সেই আশঙ্কা কাটাতে কেন্দ্র নানা পদক্ষেপের কথা বললেও বাস্তবে পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু ব্যবসায়ী অনলাইন পেমেন্ট না নেওয়ার কথা জানিয়ে পোস্টার দেওয়া শুরু করেন। কোথাও আবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা দিলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি নগদে বিল মেটানোর কথাও জানিয়ে দেন।
উৎসবের মরশুমে এই পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে দুর্গাপুজো, দীপাবলি এবং বিয়ের মরশুমে কেনাকাটা ও পরিষেবা খাতে অনলাইন লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। ফলে সেই সময়েই অতিরিক্ত ফি চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা ছিল।
এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই আপাতত এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্র। সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের উৎসবের মরশুম পার করে আগামী জানুয়ারি থেকে এই ফি কার্যকর করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রের তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি।
দেশে বর্তমানে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করেন। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, এমডিআর চালু হলে অনলাইন লেনদেনকারীদের একটি বড় অংশ ডিজিটাল পেমেন্ট থেকে সরে আসতে পারেন। প্রায় ৫ কোটি মানুষের মধ্যে ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত অনলাইন লেনদেন কমিয়ে দিতে পারেন বলেও ওই সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে ভারতের দ্রুত এগোতে থাকা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় তার বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দেশজুড়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষ এবং উৎসবের মরশুমে সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে ১৫ অক্টোবর থেকে প্রস্তাবিত এমডিআর আপাতত পিছিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে। এখন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই নজর রয়েছে ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন