সমকালীন প্রতিবেদন : গাইঘাটা থানার অন্তর্গত বর্ণবেড়িয়ায় ধানখেত থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ধানখেতে ওই যুবকের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে খুনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বছর ৪০ বয়সের মৃত ওই ব্যক্তির নাম বাসুদেব দাস। তিনি গাইঘাটার নোড়াদহ গ্রামের বাসিন্দা। বর্ণবেড়িয়ার রাজবংশীপাড়া এলাকায় জমি ইজারা নিয়ে জবাফুলের চাষ করতেন তিনি। বুধবার সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতে তাঁর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দেহের অবস্থা দেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশেও কোপানো হয়েছিল।
ঘটনাটি নজরে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দারা গাইঘাটা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখান থেকে দেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কীভাবে এবং ঠিক কখন বাসুদেবের মৃত্যু হয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ নাড়ুগোপাল বিশ্বাস নামে রাজবংশীপাড়ার এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। কী কারণে এই খুন, তার সঙ্গে ধৃতের কী ধরনের যোগসূত্র রয়েছে এবং ঘটনার পিছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই খুন হয়ে থাকতে পারে বলে সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। তবে এই অনুমানের স্বপক্ষে এখনও তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনও টানাপোড়েন এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, তা জানতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ঘটনার আগে ও পরে কী কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন।
একটি ধানখেত থেকে এভাবে এক কৃষকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় বর্ণবেড়িয়া ও সংলগ্ন এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশি তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
বাসুদেব দাসের মৃত্যুর পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা, সম্পর্কজনিত বিবাদ, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা তদন্তের পরেই পরিষ্কার হবে। গ্রেফতারির পর তদন্তে কতটা অগ্রগতি হয় এবং এই ঘটনায় আরও কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন