সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে আসন্ন পুরভোটকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতিতে গতি বাড়াল বিজেপি। কালীপুজোর পর নভেম্বরের শেষের দিকে পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা বাড়ছে। এরই মধ্যে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরভোটে বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুকান্ত মজুমদার। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে আগ্রহীদের আবেদনপত্র নির্দিষ্ট ড্রপবক্সে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা-ও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বিজেপির তরফে এবার সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও পুরভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাঁরা নির্বাচনে লড়তে আগ্রহী, তাঁদের জন্য দলের দরজা খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সুকান্ত। তবে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলের দীর্ঘদিনের কার্যকর্তা ও কর্মীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। অর্থাৎ, নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পুরনো কর্মীদের অবদানকেও গুরুত্ব দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে একাধিক মাপকাঠি বিবেচনা করবে বিজেপি। সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা খতিয়ে দেখা হবে। শুধু রাজনৈতিক পরিচিতি নয়, এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনসমর্থনও প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এই বিষয়গুলি মাথায় রেখেই ইতিমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
এ ছাড়াও প্রার্থী নির্বাচনে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তরের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। বুথ স্তর থেকে শুরু করে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি এবং কে নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর দ্রুত প্রার্থী তালিকা সামনে আনারও পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারবে দল। ফলে নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে প্রচারে নামতে চাইছে বিজেপি।
পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিজেপির যাঁরা পুরনো কার্যকর্তা, যাঁরাই ভোটের আগে বিজেপির সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের বিশেষ গুরুত্ব। রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছুই হয় না।” আসন্ন পুরভোটে যোগ্য ও জয়ের সম্ভাবনাময় প্রার্থী বেছে নেওয়াই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। এখন নজর ২৬ অক্টোবরের সময়সীমার মধ্যে কতগুলি আবেদন জমা পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত কাদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয় দল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন