Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

২০২৭ বিশ্বকাপে রোহিত-কোহলির জায়গা কি নিশ্চিত? দুই শর্তের কথা জানালেন বিসিসিআই সভাপতি

 ‌

2027-World-Cup

সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপে কি ভারতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাবে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে? কয়েক মাস আগেও এই প্রশ্ন ঘিরে ক্রিকেট মহলে জোর চর্চা চলছিল। তবে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক সাফল্য দিয়ে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করেছেন ভারতের দুই মহাতারকা। তবুও বিশ্বকাপের দলে তাঁদের জায়গা নিশ্চিত, এমন কথা এখনই বলা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাস। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বয়স নয়, বরং ফিটনেস ও পারফরম্যান্সই হওয়া উচিত দল নির্বাচনের প্রধান মাপকাঠি। আর সেই সূত্র ধরেই নতুন করে সামনে এসেছে মহম্মদ শামির জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা।

২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও প্রায় এক বছর বাকি। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ায় আয়োজিত হতে চলা এই প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখেই ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরি করছে ক্রিকেটের থিঙ্কট্যাঙ্ক। অধিনায়ক শুভমান গিলের নেতৃত্বে নতুন দল গড়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ভূমিকা নিয়েও চলছে আলোচনা। বিশ্বকাপের সময় রোহিত শর্মার বয়স হবে ৪০ বছর। অন্যদিকে বিরাট কোহলি তখন ৩৮ বছরে পা দেবেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের বয়স ও দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

‘স্পোর্টস্টার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিঠুন মানহাস জানিয়েছেন, ক্রিকেটার নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়সকে একমাত্র বিবেচ্য বিষয় করা উচিত নয়। তাঁর মতে, কোনও খেলোয়াড় যদি সম্পূর্ণ ফিট থাকেন, নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স করেন এবং দলকে ম্যাচ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন, তবে তাঁকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তবে চূড়ান্ত দল নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচক ও কোচের উপরই বর্তায় বলে স্পষ্ট করেছেন বোর্ড সভাপতি।

অর্থাৎ, রোহিত ও কোহলির ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হবে তাঁদের ফিটনেস এবং ধারাবাহিকতা। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে দুই তারকার সাফল্য তাঁদের বিশ্বকাপের দাবিকে আরও জোরালো করেছে। তবে আগামী এক বছরে তাঁরা নিজেদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা কতটা বজায় রাখতে পারেন, তার উপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে।

মিঠুন মানহাসের এই বক্তব্যের পরই আলোচনায় উঠে এসেছে মহম্মদ শামির নাম। ২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত বোলিং করে নজর কেড়েছিলেন এই পেসার। ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ফলে ফিটনেস ও পারফরম্যান্সই যদি নির্বাচনের প্রধান শর্ত হয়, তবে শামির মতো অভিজ্ঞ বোলারের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করছেন অনেকে।

অন্যদিকে, হর্ষিত রানা, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ এবং গুরনূর ব্রারের মতো বোলারদের সুযোগ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে ক্রিকেট মহলের একাংশে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এক ধরনের মাপকাঠি এবং তরুণদের ক্ষেত্রে অন্য মাপকাঠি প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সেই বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। যদিও দল নির্বাচনের বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি বিসিসিআই সভাপতি।

শুধু রোহিত-কোহলির ভবিষ্যৎ নয়, নতুন অধিনায়ক শুভমান গিলের নেতৃত্ব নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন মানহাস। তাঁর মতে, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি গিলকে সাহায্য করবে। পাশাপাশি জসপ্রীত বুমরা বোলিং বিভাগের নেতৃত্ব দিতে পারেন। দলের বিভিন্ন দায়িত্ব অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হলে অধিনায়কের কাজ অনেক সহজ হবে বলেও মনে করেন তিনি।

২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। যশস্বী জয়সওয়ালের মতো তরুণরা যেমন সুযোগের অপেক্ষায়, তেমনই রোহিত-কোহলির মতো তারকাদের অভিজ্ঞতাও দলের সম্পদ। শেষ পর্যন্ত নির্বাচকরা কাদের উপর ভরসা রাখেন, তা সময়ই বলবে। তবে মিঠুন মানহাসের বক্তব্যে অন্তত স্পষ্ট, বয়সের চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্স ও ফিটনেসকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে তিনি।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন