সমকালীন প্রতিবেদন : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি মাদক পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে ফের বড়সড় সাফল্য মিলল। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি মারুতি গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে বাগদা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিলের পরিমাণ ৫৯৮ বোতল। এই ঘটনায় মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাগদার কুড়ুলিয়া এলাকায় একটি মারুতি গাড়িকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। গাড়িটির গতিবিধি দেখে সন্দেহ হওয়ায় সেটিকে দাঁড় করিয়ে তল্লাশি শুরু করেন তাঁরা। তল্লাশির সময় গাড়ির ভিতরে একাধিক পেটি দেখতে পান পুলিশকর্মীরা। সেগুলি খুলতেই বেরিয়ে আসে বিপুল সংখ্যক ফেনসিডিলের বোতল। হিসাব করে দেখা যায়, গাড়িতে মোট ৫৯৮ বোতল ফেনসিডিল মজুত ছিল।
ঘটনাস্থল থেকেই গাড়িতে থাকা দুই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম অমৃত ডাকুয়া এবং রমেশ পাল। পুলিশ জানিয়েছে, অমৃত বাগদার নেতাজি পল্লীর বাসিন্দা। অপর ধৃত রমেশের বাড়ি দেয়ালদহ এলাকায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত, কোথা থেকে মাদকগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সীমান্তের ওপারে কার কাছে সেগুলি পৌঁছনোর কথা ছিল, এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার পিছনে আরও বড় কোনও পাচারচক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মাদক এবং গাড়িটির উৎস সম্পর্কেও তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃত দু’জনকে শুক্রবার বারাসত আদালতে পেশ করে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বাগদা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান রুখতে পুলিশের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই এলাকায় মাদক-সহ বিভিন্ন সামগ্রী পাচারের অভিযোগ মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। সেই কারণে সীমান্তবর্তী রাস্তাগুলিতে পুলিশের নজরদারি এবং বিশেষ তল্লাশি অভিযানও চালানো হয়।
রাজ্যজুড়ে বেআইনি অস্ত্র ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশের মধ্যেই বাগদায় এই বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর পাচারচক্রের আরও কোনও সদস্যের নাম সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন