সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁ ব্লকের পাল্লা গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেন পঞ্চায়েত সদস্যদের একাংশ। অনাস্থা ভোটে তৃণমূলের প্রধান সেবিকা দাসের বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন মেলার পর নতুন করে প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে ভোটাভুটির মাধ্যমে বিজেপির মহারানী বণিক সরকারকে নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে পাল্লা গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ২৩টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। নির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেস ১৭টি আসন পায়। বিজেপির দখলে যায় ৪টি আসন। পাশাপাশি একজন নির্দল এবং একজন সিপিএম প্রার্থীও জয়ী হন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তৃণমূলের সেবিকা দাস পঞ্চায়েতের প্রধানের দায়িত্ব পান।
তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম নিয়ে শাসকদলের অন্দরে এবং পঞ্চায়েত সদস্যদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে দাবি বিজেপির। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে নির্বাচিত সদস্যরা নিজেদের মতো করে কাজ করতে পারছিলেন না। পঞ্চায়েত পরিচালনা ও বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে মতবিরোধ তৈরি হওয়ার কারণেই শেষ পর্যন্ত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি বিজেপির।
বিজেপির বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদারের দাবি, পঞ্চায়েতের কাজকর্ম নিয়ে সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল। সেই কারণেই বিজেপির নেতৃত্বে মোট ১৫ জন পঞ্চায়েত সদস্য প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে পঞ্চায়েতে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়।
এরপর অনাস্থা ভোটকে কেন্দ্র করে পঞ্চায়েতে ভোটাভুটি হয়। সেখানে বিজেপির পক্ষে ১৫ জন পঞ্চায়েত সদস্য অবস্থান নেন বলে দাবি করা হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনের পর প্রধান পদে নতুন করে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে মহারানী বণিক সরকারকে প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
বিজেপির দাবি, নতুন প্রধান নির্বাচনের ফলে পাল্লা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজনৈতিক সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে। তাদের বক্তব্য, এতদিন পঞ্চায়েতে তৃণমূলের নেতৃত্ব থাকলেও অনাস্থার পর বিজেপির হাতে প্রধানের দায়িত্ব এসেছে। একই সঙ্গে পঞ্চায়েতে থাকা সিপিএম এবং নির্দল সদস্যদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্লা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। নতুন প্রধানের নেতৃত্বে পঞ্চায়েত কীভাবে পরিচালিত হয় এবং উন্নয়নমূলক কাজ কতটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন