Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১৮ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান, ইছাপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির নতুন প্রধান

 

New-Panchyate-Prodhan

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌গাইঘাটার ইছাপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়ার পর এ বার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত করল বিজেপি। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হলেন প্রাক্তন ফুটবলার তথা দু’বারের পঞ্চায়েত সদস্য তরুণ কুমার দেউড়ি। উপপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির তাপসী মণ্ডল। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসানের পর পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির হাতে এল।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১১ সেপ্টেম্বর ইছাপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে অনুষ্ঠিত অনাস্থা ভোটে তৃণমূলকে পরাজিত করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি। ওই ভোটের ফলাফলের পরই পঞ্চায়েতের ক্ষমতা তৃণমূলের হাতছাড়া হয়। তবে অনাস্থা ভোটে জয়ের পর নতুন প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগে। অবশেষে বুধবার দলীয় নির্দেশ মেনে প্রধান ও উপপ্রধানের নাম ঘোষণা করা হয়। সর্বসম্মতিক্রমে প্রধান নির্বাচিত হন তরুণ কুমার দেউড়ি। অন্যদিকে, উপপ্রধানের দায়িত্ব পান বিজেপির তাপসী মণ্ডল।

নতুন প্রধান তরুণ দেউড়ির রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি রয়েছে ক্রীড়াজগতের অতীতও। একসময় ফুটবল মাঠে মাঝমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি ছিল তাঁর। ফুটবল খেলার পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই দু’বার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। এ বার পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি। তাঁর নির্বাচনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রধান ও উপপ্রধানের নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পঞ্চায়েতের সামনে জড়ো হন দলের বহু কর্মী-সমর্থক।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তরুণ দেউড়ি জানান, পঞ্চায়েত পরিচালনার ক্ষেত্রে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য। এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেক বাসিন্দার পাশে দাঁড়িয়ে পঞ্চায়েতের পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই পঞ্চায়েত পরিচালনা করা হবে।

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা মলয় মণ্ডল পঞ্চায়েতের নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত দিনের কাজকর্ম খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, আগের পঞ্চায়েতের আমলে কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি বা ফাইল খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, অনাস্থা ভোটে জয়ের পর প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচনকে ঘিরে ইছাপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির সাংগঠনিক তৎপরতা আরও বাড়ল। নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন এলাকার উন্নয়ন, পঞ্চায়েতের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং বাসিন্দাদের প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, আগের পঞ্চায়েতের কাজকর্ম নিয়ে বিজেপি নেতাদের বক্তব্য ঘিরেও আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন