সমকালীন প্রতিবেদন : রক্তের প্রয়োজন মেটাতে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার বার্তা দিতে এবার নিজেই রক্তদান করলেন বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার বিদীশা কলিতা দাশগুপ্ত। বনগাঁ সাবডিভিশনাল চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে উপস্থিত হয়ে নিজে রক্ত দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি। পুলিশ সুপারের এই উদ্যোগে শিবিরে উপস্থিত উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে রক্তদাতাদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়।
রবিবার বনগাঁ সাবডিভিশনাল চেম্বার অব কমার্সের নিজস্ব কার্যালয়ে এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই সেখানে রক্তদাতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও শিবিরে এসে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। আয়োজকদের দাবি, এদিনের শিবিরে শতাধিক মানুষ রক্তদান করেছেন।
শিবিরে উপস্থিত হয়ে রক্তদানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন পুলিশ সুপার বিদীশা কলিতা দাশগুপ্ত। বিশেষ করে মহিলাদের রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার দিকে মহিলাদেরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শরীর সুস্থ থাকলে মানসিক সুস্থতাও বজায় রাখা সহজ হয়। নিজের রক্তদানের মাধ্যমে মহিলাদেরও এই সামাজিক কাজে অংশ নেওয়ার বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে জানান পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপার নিজে রক্তদান করায় এদিনের শিবিরে তা বিশেষ তাৎপর্য পায়। একজন প্রশাসনিক আধিকারিক হিসেবে শুধু রক্তদানের প্রয়োজনীয়তার কথা না বলে নিজেই রক্ত দিয়ে সাধারণ মানুষের সামনে উদাহরণ তৈরি করেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান শিবিরের উদ্যোক্তা ও উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া, বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল-সহ বনগাঁর অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের উপস্থিতিতে রক্তদান শিবির ঘিরে উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পায়। আয়োজকদের তরফে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি নিয়মিত রক্তদানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
বনগাঁ সাবডিভিশনাল চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক বিনয় সিংহ জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও সংগঠনের পক্ষ থেকে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। মানুষের প্রয়োজনে রক্তের জোগান বজায় রাখা এবং রক্তদানের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তবে এবার পুলিশ সুপার নিজে রক্ত দিয়ে শিবিরের উদ্বোধন করায় অনুষ্ঠানটি বিশেষ মাত্রা পেয়েছে বলে জানান তিনি।
আয়োজকদের বক্তব্য, দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, প্রসূতি চিকিৎসা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জরুরি মুহূর্তে রক্তের প্রয়োজন হয়। সেই প্রয়োজন মেটাতে স্বেচ্ছায় রক্তদানের বিকল্প নেই। তাই সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আগামী দিনেও এই ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন