সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-এর প্রশাসনিক ও ক্রিকেটীয় কাঠামোয় এক বড় ধরনের রদবদলের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি-এর প্রধান এবং প্রাক্তন জাতীয় ব্যাটার ভিভিএস লক্ষ্মণকে আরও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করার চিন্তাভাবনা করছে বোর্ড। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চললে, 'ভেরি ভেরি স্পেশাল' লক্ষ্মণকে ভারতীয় ক্রিকেটের 'ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট' হিসেবে নিযুক্ত করা হতে পারে। এই নতুন পদটি কার্যকর হলে লক্ষ্মণের প্রভাব ও পরিধি কেবল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা ভারতীয় দলের প্রধান কোচের চেয়েও বহুগুণে বিস্তৃত হবে।
২০২৪ সালে রাহুল দ্রাবিড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতের প্রধান কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন লক্ষ্মণ। তবে সে সময় জাতীয় দলের সার্বিক দায়িত্ব না নিয়ে তিনি সেন্টার অফ এক্সেলেন্সেই যুক্ত থাকতে আগ্রহী হন। সেখানে তরুন ক্রিকেটারদের রিহ্যাব, হাই-পারফরম্যান্স প্রোগ্রাম পরিচালনা এবং তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।
পাশাপাশি, জাতীয় দলের সঙ্গেও তাঁর কাজের চমৎকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। একাধিক সফরে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সম্প্রতি গম্ভীরের অনুপস্থিতিতে জিম্বাবুয়ে সফরে তরুণ ভারতীয় দলকে ৩-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতিয়ে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। বিসিসিআই কর্তারা মনে করছেন, গোটা দেশের ক্রিকেটীয় পরিকাঠামোকে এক ছাতার নিচে আনতে লক্ষ্মণের মতো দূরদর্শী ব্যক্তিত্বই সবচেয়ে উপযুক্ত।
'ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট' হিসেবে নিযুক্ত হলে লক্ষ্মণকে একগুচ্ছ বড় দায়িত্ব সামলাতে হবে। ক্রিকেট মহলের মতে, নতুন পদে তাঁর প্রধান কাজগুলি হতে পারে– সিনিয়র দল, জাতীয় নির্বাচক মণ্ডলী এবং কোচিং স্টাফের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন। জুনিয়র স্তর থেকে শুরু করে সিনিয়র স্তরের ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক উন্নতির উপর কড়া নজরদারি করা। সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের আধুনিকীকরণ এবং বিশ্বমানের ক্রিকেট প্রতিভা অন্বেষণের রূপরেখা তৈরি করা। এককথায়, আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেটের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং ক্রিকেটীয় গতিবিধি লক্ষ্মণের নজরদারিতেই বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, সেপ্টেম্বর মাসেই একাধিক প্রশাসনিক পদ ও মেয়াদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে। জাতীয় নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরে শেষ হতে চললেও, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে তাঁর কার্যকাল ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান কোচ গৌতম গম্ভীরসহ পুরো কোচিং স্টাফের পারফরম্যান্সও বোর্ডের আতশকাচের নিচে রয়েছে।
যদিও বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে এখনও সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রেখে চলেছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন