সমকালীন প্রতিবেদন : দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যুব সমাজকে কেন্দ্র করে শিক্ষা, ক্রীড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং শক্তি উৎপাদন ক্ষেত্রের মতো একাধিক বিষয়ে আগামী দিনের রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে কেন্দ্র।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বহুমূল্য কোচিং ক্লাসের খরচ বহন করতে গিয়ে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলি যে চরম আর্থিক চাপে পড়ে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, এই পরিবারগুলির ওপর থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক বোঝা কমাতে এবার কেন্দ্র নিজেই পরীক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং-এর ব্যবস্থা করবে। দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং প্রথম সারির দক্ষ শিক্ষকদের কাজে লাগিয়ে একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের বাড়ি বা পছন্দের স্থানে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নিতে পারে। সম্প্রতি পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগে দেশের যুব সমাজের বিক্ষোভের পর কেন্দ্র সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে সফলভাবে আয়োজিত এআই সামিটের ধারাবাহিকতায় এবার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ১ কোটি যুবক-যুবতীকে এআই সম্পর্কিত দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ব দরবারে ভারতের তরুণ প্রজন্মকে এআই সেক্টরে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য করে তোলা।
ভারত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক হতে চলেছে এবং ২০৩৬ সালে অলিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য জোরালো দাবিদার। অলিম্পিকের মূল প্রতিযোগিতায় ভারতের অংশগ্রহণ বাড়াতে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্য থেকে জাতীয় স্তরে প্রতিভা খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই 'স্পোর্টস ট্যালেন্ট হান্ট' কর্মসূচির মাধ্যমে ছোট থেকেই শিশুদের বিশ্বমানের অ্যাথলিট হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে অলিম্পিকের অন্তত তিন-তৃতীয়াংশ ইভেন্টে ভারত যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।
যেকোনো ধরনের আধুনিক সংকট ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং উন্নত প্রশিক্ষণে সমৃদ্ধ একটি বিশাল 'সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার ফোর্স' গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র।
ডিজিটাল দুনিয়ার চাহিদা মেটাতে দেশে 'মেড ইন ইন্ডিয়া' চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর তৈরির পরিধি দ্রুত বিস্তার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশে তিনটি প্রধান সেমিকন্ডাক্টর কেন্দ্রে কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ৭-৮ বছরের মধ্যে আরও ৫ থেকে ৮টি নতুন প্ল্যান্ট চালু করা হবে।
অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি শক্তি সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদে 'পিস অ্যাক্ট' পাসের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, এই দশকের মধ্যেই আরও পাঁচটি নতুন পারমাণবিক চুল্লি চালু করার কাজ চলছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন