সমকালীন প্রতিবেদন : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দিল্লির বঙ্গভবনে তৃণমূলত্যাগী এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী বৈঠক সারলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলগতভাবে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এটিই ছিল প্রথম সরাসরি বৈঠক। এনসিপিআই এনডিএ জোটের অংশ হিসেবে থাকবে নাকি বিজেপিতে একীভূত হয়ে যাবে– রাজনৈতিক মহলে এই জল্পনার মাঝেই প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ, পার্থ ভৌমিক ও মালা রায়দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে মূলত প্রতিটি সংসদীয় এলাকার উন্নয়নমূলক কাজকর্ম এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাংসদরা যাতে নিজ নিজ এলাকার রাস্তাঘাট, আইসিডিএস কেন্দ্র, সেতু ও হাসপাতাল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রকল্পের লিখিত প্রস্তাব দ্রুত জমা দিতে পারেন, সে বিষয়ে দিকনির্দেশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। লোকসভা অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর নবান্নে বিজেপি ও এনসিপিআই সাংসদদের নিয়ে যৌথ বৈঠকের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।
এ ছাড়া, রাজনৈতিক কারণে এলাকা ছাড়া হওয়া সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের বিষয়ে বিশেষ আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে। কাউকে যেন ভয় বা অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকতে হয়, তা নিশ্চিত করতে সাংসদদের সর্বাত্মকভাবে মানুষের পাশে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সাংসদ বাপী হালদার জানান, কোনো যোগ্য নাগরিক যাতে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না হন, তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠক শেষে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শতাব্দী রায় এই আলোচনাকে অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ বলে ব্যাখ্যা করেন। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “এলাকার কাজ কীভাবে তরান্বিত করা যায়, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর থেকে স্পষ্ট পরামর্শ ও গাইডলাইন পেয়ে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।”
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকরা বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও বিষয়টিকে মূলত একটি ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে অভিহিত করেন এবং লোকসভার সাংসদদের মন্তব্যকেই প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, এনডিএ-র পৃথক বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেও এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার তিন সংখ্যালঘু সাংসদ– আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান। এনডিএ বা বিজেপিতে যোগ না দিয়ে কেবল এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন আবু তাহের খান।
এই প্রসঙ্গে শতাব্দী রায় মন্তব্য করেন যে, প্রতিটি জনপ্রতিনিধির নিজস্ব কিছু রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা বা সমীকরণ থাকতে পারে এবং শুভেন্দু অধিকারীও সেই অবস্থানকে সম্মান জানিয়েছেন। এনসিপিআই ও এনডিএ জোট ঘিরে নানা রাজনৈতিক জল্পনা চললেও সাংসদরা দাবি করেছেন যে, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই তাঁরা আগামী দিনে যৌথ উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়ন করবেন।
.jpg)







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন