সমকালীন প্রতিবেদন : স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বনগাঁ এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। মঙ্গলবার বেঙ্গল এসটিএফ-এর বিশেষ অভিযানে হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব নামের এক ব্যক্তি। স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি মূলত পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এক সন্দেহভাজন সদস্য। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে কলকাতার তপসিয়া এলাকায় আসল পরিচয় গোপন রেখে ভুয়ো পরিচয়ে আত্মগোপন করেছিল সে।
উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের তালিকায় দেখা গেছে, এ দেশে নিজেদের উপস্থিতি গোপন রাখতে ও অবাধে চলাফেরা করার উদ্দেশ্যে ভুয়ো আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে নিয়েছিল ধৃত ব্যক্তি। এই আন্তর্জাতিক চক্র ও জাল পরিচয়পত্র তৈরিতে তাকে সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগে কলকাতার এক বাসিন্দাকেও পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে। ঠিক কী উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তি ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় তার ঘন ঘন যাতায়াতের নেপথ্যে কোনো বড়সড় নাশকতার ছক ছিল কি না এবং সে কোন পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত, তা জানতে ধৃতকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করছে এসটিএফ।
এদিকে এই গ্রেফতারির পর থেকেই স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে সমগ্র বনগাঁ ও পেট্রাপোল সীমান্ত এবং রেল সংযোগস্থলগুলিতে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা নাশকতামূলক চক্রান্ত এড়াতে বুধবার সকাল থেকেই জিআরপি ও আরপিএফ-এর যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি। অভিযানে সরাসরি অংশ নেয় শিয়ালদা জিআরপি-র বম্ব স্কোয়াড। বনগাঁ ও পেট্রাপোল রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, ট্রেনের বিভিন্ন কামরা, এমনকি সংলগ্ন রেললাইন ধরেও পরীক্ষা চালানো হয়।
রেল প্ল্যাটফর্মে আসা-যাওয়া করা সাধারণ যাত্রীদের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নিরাপত্তারক্ষীরা নজর রাখছেন। সন্দেহজনক মনে হলেই পরীক্ষা করা হচ্ছে ব্যাগপত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র। পাশাপাশি, টুরিস্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে থেকে ভারতে আসা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বনগাঁ স্টেশনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং যাচাই করা হচ্ছে তাঁদের যাত্রার উদ্দেশ্য ও গন্তব্যস্থল।
বাংলাদেশ থেকে ভারতে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে আসা যাত্রীরা জানান, রেল পুলিশের পক্ষ থেকে তাদেরকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। তারা কোথা থেকে, কেন ভারতে এসেছেন, কোথায় যাবেন ইত্যাদি বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সীমান্ত সংলগ্ন এই অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগামী ১৫ অগস্ট পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন