সমকালীন প্রতিবেদন : আরজি করের ঘটনার ২ বছর পূর্তিতে নতুন করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহল। নির্যাতিতা চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত একটি স্মরণসভা থেকে গোটা ঘটনার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের পরিবর্তনের পর সিবিআই যেমন তদন্তের গতি বাড়িয়েছে, তেমনই রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকেও একটি পৃথক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
নিহত চিকিৎসকের স্মরণে পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে আয়োজিত সভায় পরিবারের পাশাপাশি প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। সেই সভা থেকেই ঘোষণা করা হয়, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে নতুন মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।
এর পরপরই খড়দহ থানা ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নতুন করে মামলা রুজু করেছে। দায়ের করা এফআইআরে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, জোড়জুলুম এবং অপরাধের তথ্যপ্রমাণ লোপাটের মতো একাধিক গুরুতর ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
পরিবারের তরফে দায়ের করা অভিযোগে শ্মশানঘাটের ঘটনাক্রম এবং প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, মৃত্যুর পর পরিবারের মতামত বা সম্মতি ছাড়াই কার্যত জোর করে দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখার বা সনাতন রীতি মেনে শেষকৃত্য করার সুযোগও পরিবারকে দেওয়া হয়নি।
অভিযোগপত্রে তৎকালীন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুরসভার প্রাক্তন প্রধান সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব (বা সন্দীপ) মুখোপাধ্যায়ের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে চিকিৎসকের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত আটকে দিয়েছিলেন নির্মল ঘোষ। পাশাপাশি সোমনাথ দে-র নেতৃত্বেই শ্মশানে দেহ নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এই তিনজনের ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে করছে প্রশাসন।
ঘটনার সময় কর্তব্যে গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের তিন শীর্ষ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আদালত এবং সিবিআই-এর নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি, রাজ্য প্রশাসনের তরফে এই পৃথক তদন্তের মাধ্যমে শ্মশানের অনিয়ম ও মূল ষড়যন্ত্রের জট ছাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন