তদন্তের সূত্রপাত হয় গত ১২ আগস্ট, যখন বনগাঁর বাজিতলা এলাকা থেকে শাহিদুল মণ্ডল নামে এক দুষ্কৃতীকে হাতেনাতে ধরে পুলিশ। তার তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় একটি আধুনিক পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন। শাহিদুলকে জেরা করে পুলিশ অনুপ খান নামে অপর এক সহযোগীর হদিস পায় এবং তাকেও দ্রুত গ্রেফতার করা হয়।
ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদের পরেই এই আন্তঃসীমান্ত অস্ত্র কারবারের বিস্তারিত নেটওয়ার্কের তথ্য ফাঁস হতে শুরু করে। সেই সূত্র ধরেই এই চক্রের অন্যতম প্রধান দুই সদস্য জীবন ও জামালের নাম উঠে আসে তদন্তকারীদের হাতে। তথ্যপ্রমাণ হাতে পাওয়ার পরেই অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে পাকড়াও করে বনগাঁ থানার একটি বিশেষ দল।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলকে নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই অস্ত্রের বেচাকেনা চালাচ্ছিল এরা। এই চক্রে আর কোন কোন প্রভাবশালী বা দুষ্কৃতী জড়িত রয়েছে, কোথা থেকে এসব আগ্নেয়াস্ত্র আনা হতো এবং কোন কোন এলাকায় তা সরবরাহ করা হতো, সেই সংক্রান্ত সমস্ত উৎস সন্ধান করতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।
মামলার সরকারি আইনজীবী (পিপি ইনচার্জ) সুজয় সাহা জানিয়েছেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অস্ত্র আইনের অধীনে কড়া ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। রবিবার অভিযুক্তদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে, তদন্তের স্বার্থে এবং চক্রের মূল শেকড়ে পৌঁছাতে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে ধৃতদের আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
একজন সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্র কারবারিকে গ্রেফতারের পর যেভাবে একের পর এক রাঘববোয়ালদের নাম সামনে আসছে, তাতে স্পষ্ট যে সীমান্ত অঞ্চলে বেআইনি অস্ত্র কারবারের জাল অত্যন্ত গভীরে ছড়ানো ছিল। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জেরা চালিয়ে এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সম্পূর্ণ পর্দাফাঁস করতে মরিয়া তদন্তকারীরা।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন