সমকালীন প্রতিবেদন : আয়ুষ্মান দিবস উপলক্ষে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক বড় পরিবর্তনের সূচনা হলো। আজ রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথভাবে উদ্বোধন করা হলো ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ এবং ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’। অনুষ্ঠানে মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল এই নতুন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রূপরেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
মুখ্যসচিব জানান, এ যাবৎ রাজ্যের প্রায় ৭.৫ কোটি নাগরিক ‘স্বাস্থ্য সাথি’ প্রকল্পের সুবিধার আওতাভুক্ত ছিলেন। নতুন ব্যবস্থার অধীনে এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি মানুষকে (১.৪৩ কোটি পরিবার) সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, অবশিষ্টাংশের প্রায় ৮০ লক্ষ পরিবারকে নিয়ে আসা হচ্ছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’-র অধীনে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নতুন এই দুটি কার্ডের যেকোনো একটি হাতে পেলেই পুরোনো স্বাস্থ্য সাথি পরিষেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে দুটি কার্ড বা প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া যাবে না।
প্রাক্তন সরকারের চালু করা স্বাস্থ্য সাথি প্রকল্পের সুবিধা কেবল রাজ্যের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এই নতুন যুগল ব্যবস্থার ফলে দেশের ৩৮,৬০৪টি নামী হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন রাজ্যবাসী। এর মধ্যে রাজ্যের নিজস্ব ১,২৪০টি বেসরকারি এবং ৬০০-রও বেশি সরকারি হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের ‘ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান’গুলির ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যসচিব। তিনি জানান, বহু দোকানে বাজারদরের চেয়েও বেশি দামে ওষুধ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা তিনি স্বয়ং খতিয়ে দেখেছেন। এই অনিয়ম রুখতে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে দ্রুত ‘জনঔষধি কেন্দ্র’ গড়ে তোলা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
আয়ুষ্মান দিবসের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ডা. সুকান্ত মজুমদার এবং বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। রাজ্যবাসীর চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও সার্বিক ও সর্বভারতীয় স্তরে পৌঁছে দিতে এই যৌথ উদ্যোগকে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন