সমকালীন প্রতিবেদন : দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও মাতৃপ্রতিমার পবিত্রতা রক্ষায় এবার একগুচ্ছ নির্দেশিকা ও কড়া বার্তা নিয়ে আসরে নামল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। মণ্ডপ প্রাঙ্গণের ঠিক আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি ও খাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি প্রতিমার অঙ্গসৌষ্ঠব এবং থিমের নামে সাংস্কৃতিক বিকৃতি বন্ধের জোর দাবি তুলেছে এই ধর্মীয় সংগঠনটি। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন দুর্গাপুজো আয়োজক কমিটিগুলির উদ্দেশে এই মর্মে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে ভিএইচপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
ভিএইচপির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী স্পষ্ট জানান, বাংলায় পুজোর সঙ্গে আমিষ খাবারের ঐতিহাসিক যোগ থাকলেও মণ্ডপের আশপাশ কোনভাবেই অপবিত্র হওয়া কাম্য নয়। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, পুজো উপলক্ষে আমিষ পদ বিক্রি করতে হলে তা মণ্ডপ ও প্যান্ডেল চত্বর থেকে বেশ খানিকটা দূরে নির্দিষ্ট স্থানে করতে হবে।
উচ্ছিষ্ট বা খাবারের অবশিষ্টাংশ যাতে কোনওভাবেই মণ্ডপ প্রাঙ্গণে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই মুখ্য উদ্দেশ্য। আয়োজক কমিটিগুলি নিজ দায়িত্বে মণ্ডপের পবিত্রতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সংগঠন নিজে থেকে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে বলে ভিএইচপি কড়া হুশিয়ারি দিয়েছে।
‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’– এই বহুল প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছে সংগঠনটি। ভিএইচপি নেতৃত্বের সাফ বক্তব্য, সনাতন ধর্মীয় আচার, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক রীতিনীতি পালনের নৈতিক দায়িত্ব ও অধিকার একচেটিয়াভাবে সনাতনীদেরই। অন্য ধর্মের মানুষরা দর্শনার্থী হিসেবে মণ্ডপে আসতেই পারেন, কিন্তু সনাতনী সংস্কার রক্ষার ভার সম্পূর্ণ রূপে হিন্দু সমাজের কাঁধে।
শিল্প বা সৃজনশীলতার বিরোধী না হলেও, ‘আর্ট’-এর অজুহাতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী। ডিম, জুতো কিংবা পুজো-বিরোধী কোনো উপাদান দিয়ে থিম প্যান্ডেল তৈরি করে মণ্ডপের পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। তার পরিবর্তে দেশের ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেবী প্রতিমার সাবিকেয়ানা বদলে আধুনিকতা আসতে পারে, কিন্তু মূর্তির মধ্যে ‘মাতৃত্ব’ ও ‘শালীনতা’ অটুট রাখা বাধ্যতামূলক। দশভূজা দেবীর হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়া বা রণংদেহী দুর্গার পোশাক-আশাকে অনভিপ্রেত পরিবর্তন আনার মতো ‘শিল্প-রসিকতা’ বরদাস্ত করা হবে না বলে সংগঠন সাফ জানিয়ে দিয়েছে। রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আসন্ন শারদোৎসবে পুজো কমিটিগুলি ভিএইচপির এই বার্তাকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং উৎসবের আবহ কেমন থাকে, এখন সেটাই দেখার।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন