Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

অশোকনগরে শুরু বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেল উত্তোলন, প্রতিদিন ১৫–২০ হাজার লিটারের লক্ষ্যমাত্রা

 

Crude-oil-extraction

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌বদলে যেতে চলেছে স্থানীয় অর্থনীতি। দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার অবসান। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বাইগাছিতে অবশেষে শুরু হল বাণিজ্যিকভাবে অপরিশোধিত খনিজ তেল উত্তোলন। শুক্রবার বাইগাছিতে ওএনজিসির কেন্দ্র থেকে প্রায় ২,৩৯৬ মিটার গভীরতা থেকে মাটির নীচে থাকা অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কিউবিক মিটার অর্থাৎ প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার লিটার তেল তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ওএনজিসি।

বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চালু করা হয়েছে পাম্পজ্যাক। উত্তোলিত অপরিশোধিত তেল প্রথমে বিশেষ ট্যাঙ্কারে সংগ্রহ করা হবে। এরপর তা পাঠানো হবে হলদিয়া শোধনাগারে। সেখানে পরিশোধনের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরিত করা হবে। অশোকনগরের বাইগাছিতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান প্রথম মেলে ২০১৮ সালে। তখন থেকেই এলাকায় তেল উত্তোলনের সম্ভাবনা ঘিরে আশার সঞ্চার হয়েছিল। 

কিন্তু নানা প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নতুন করে খনন করে ফের তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। ২০২০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে উত্তোলন চালিয়ে প্রায় ৩৭৫ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাওয়া গিয়েছিল। তবে সেই সময়ও উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অবশেষে যাবতীয় সমস্যা কাটিয়ে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উত্তোলনের পথ খুলল।

বাণিজ্যিক তেল উত্তোলনের সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওএনজিসির ডিরেক্টর (এক্সপ্লোরেশন) ওমপ্রকাশ সিনহা এবং অশোকনগরের বিধায়ক ডাঃ সুময় হীরা। ওএনজিসি সূত্রে জানা গেছে, অশোকনগর তেলক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই মোট ছ’টি কূপ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি কূপ থেকে খনিজ তেল এবং বাকি দু’টি কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। ওএনজিসির ডিরেক্টর জানান, কয়েক বছর আগে উত্তোলন প্রক্রিয়ায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বর্তমানে বাইগাছির কূপ থেকে যে অপরিশোধিত তেল পাওয়া যাচ্ছে, তার গুণমান আগের তুলনায় ভালো বলেও তিনি দাবি করেন।

ওএনজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫–৯০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। একইভাবে দেশের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৫০ শতাংশও আমদানিনির্ভর। ফলে দেশের মাটিতে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোই আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য।

বাইগাছিতে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এই তৈলক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাইগাছির কূপ থেকে যে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হচ্ছে, তার সঙ্গে জলও উঠে আসবে। উত্তোলনের পর প্রথম ধাপে বিশেষ প্রক্রিয়ায় জল ও তেলকে আলাদা করা হবে। এরপর পৃথক করা অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কারে করে নির্দিষ্ট শোধনাগারে পাঠানো হবে।

অশোকনগরের বিধায়ক ডাঃ সুময় হীরা জানান, বিভিন্ন সমস্যা মিটিয়ে অবশেষে ওএনজিসি তেল উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে। আগামী দিনে এলাকায় আরও চারটি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, তেল ও গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ বাড়লে শুধু অশোকনগর নয়, গোটা রাজ্যের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও এর প্রভাব পড়বে।

বাইগাছি থেকে পাওয়া অপরিশোধিত তেলের এপিআই গ্র্যাভিটি প্রায় ৪০–৪১ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। গুণমানের বিচারে এই তেল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তৈলক্ষেত্র বম্বে হাইয়ের তেলের সঙ্গে তুলনীয় বলেও জানানো হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো গেলে অশোকনগরের মাটির নীচে থাকা তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ আট বছর আগে যে সম্ভাবনার দরজা খুলেছিল, এতদিনে তা বাস্তব বাণিজ্যিক উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছল। অশোকনগরের মাটির নীচ থেকে উঠে আসা এই অপরিশোধিত তেল তাই শুধু একটি স্থানীয় প্রকল্প নয়, দেশের জ্বালানি আমদানি-নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।‌

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন