Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

রাজ্যে জঙ্গি দমনে বড় পদক্ষেপ: মহারাষ্ট্র-ইউপির আদলে তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী 'অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড'

 

Anti-Terrorist-Squad

সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে এবং সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে নবান্ন। মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট ও দিল্লি পুলিশের ধাঁচে এবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশও গঠন করতে চলেছে নিজস্ব 'অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড' বা এটিএস। একই সাথে জঙ্গি দমনে গতি আনতে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের পৃথক দুটি স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-কে এক ছাতার নিচে এনে একটি একক এসটিএফ গড়ার বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য। এই সংক্রান্ত প্রাথমিক খসড়া ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে।

সম্প্রতি জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), আইএস, আকিস ও লস্কর-এর মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলির স্লিপার সেল ও মডিউল রাজ্যে সক্রিয় হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ মদতে রাজ্যের ভিভিআইপি-দের লক্ষ্য করে নাশকতার ছক, খারিজি মাদ্রাসার আড়ালে তরুণদের মগজধোলাই এবং সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে নতুন জঙ্গি নিয়োগের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। 

সম্প্রতি রাজ্য এসটিএফ-এর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি হামিম মণ্ডল ও তার সহযোগী অর্পিতা সরকারের জেরায় এই ধরনের একাধিক আশঙ্কাজনক তথ্য প্রকাশ্যে আসায় নজরদারি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গোয়েন্দারা। নবান্ন সূত্রে খবর, প্রস্তাবিত এই নতুন এটিএসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন একজন আইজি পদমর্যাদার আইপিএস কর্মকর্তা। তাঁর অধীনে কাজ করবেন ডিআইজি, এসপি-সহ অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিকেরা। 

ইতিপূর্বে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের হয়ে সন্ত্রাসদমনে বিশেষ দক্ষতা দেখিয়েছেন, তাঁদেরই প্রধানত এই বিশেষ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এটিএসের মূল সদর দফতর কলকাতা বা তার সংলগ্ন এলাকায় হলেও মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, মালদহ, বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো সীমান্তবর্তী ও স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে খোলা হবে এর শাখা দফতর। সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশ, স্লিপার সেল গঠন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ রুখতে এই শাখাগুলি ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাবে।

অন্যদিকে, নতুন এটিএস গঠিত হলেও বিদ্যমান এসটিএফ-এর গুরুত্ব কমছে না। দুই এসটিএফের একত্রীকরণের পর নতুন পরিকাঠামোয় মাদক সন্ত্রাস, বেআইনি অস্ত্র পাচার এবং জঙ্গিদের আর্থিক উৎস বা 'টেরর ফান্ডিং'-এর উপর কড়া নজর রাখবে এসটিএফ। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য জঙ্গি চক্রান্ত ব্যর্থ করতে এক নতুন ও সুসংহত পুলিশি বলয় গড়ে তুলতে চলেছে রাজ্য সরকার।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন