সমকালীন প্রতিবেদন : দীর্ঘদিনের যানজটের যন্ত্রণা ও ফুটপাত দখলের হাত থেকে কি এবার মুক্তি পেতে চলেছে বনগাঁ শহর? রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক কড়া নির্দেশের পর অন্তত তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। গত শুক্রবার বনগাঁ পুরসভা ও বনগাঁ জেলা প্রশাসনের কর্তারা যৌথভাবে শহরের রাস্তায় এক মেগা অভিযানে নামেন। মূলত শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং বেআইনি টোটোর দৌরাত্ম্য বন্ধ করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
পুরসভা সূত্রে খবর, গত ২২ তারিখ রাজ্য পুর দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত পুর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার এবং বেআইনি টোটো চলাচলের ওপর রাশ টানার সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেই নির্দেশকে কার্যকর করতেই শুক্রবার কোমর বেঁধে মাঠে নামে প্রশাসন। পুরপ্রধানের নেতৃত্বে এদিন বনগাঁর ‘ট’ বাজার এলাকা থেকে এই উচ্ছেদ ও সচেতনতা অভিযান শুরু হয়। এরপর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রাখালদাস সেতু, বাটার মোড়, কোর্ট রোড, নিউ মার্কেট সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
এই অভিযান প্রসঙ্গে বনগাঁর পুরপ্রধান দিলীপ মজুমদার জানান, “রাজ্য পুর দপ্তরের নির্দেশ মোতাবেক আমরা প্রথম দফায় মৌখিক প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করছি। আজ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হলো। এক সপ্তাহের মধ্যে ফুটপাথ থেকে দোকানদারদের সরে যেতে বলা হয়েছে। কথায় কাজ না হলে এরপর নিয়মভঙ্গকারীদের উদ্দেশ্যে আইনি নোটিশ জারি করা হবে। এছাড়া গ্রামীণ এলাকা থেকে যে সমস্ত টোটো শহরের ভেতরে ঢুকে যানজট বাড়াচ্ছে, সেগুলি আটকানোর জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
প্রশাসনের এই আকস্মিক তৎপরতায় দীর্ঘদিনের যানজটে জেরবার শহরবাসী কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ফুটপাত হকারদের দখলে চলে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হতো, যার ফলে দুর্ঘটনা লেগেই থাকত। ফুটপাত খালি হলে এবং টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রিত হলে শহরের পথ নিরাপত্তা অনেকটাই সুনিশ্চিত হবে।
প্রশাসনের এই অভিযানের মাঝেই দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ। অভিযানের অংশ হিসেবে বনগাঁর ঐতিহাসিক রাখালদাস সেতুর নিচের অংশ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে পুরসভা। আর এই নির্দেশ ঘিরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে এই অংশে প্রায় ৫৪ জন ব্যবসায়ী রুজি-রুটির টানে দোকান চালাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, অতীতে যখন তারা পুরসভা থেকে এই ঘরগুলি নিয়েছিলেন, তখন নিয়ম মেনে টাকা দিয়েই নিয়েছিলেন। এমনকি আজও প্রতি মাসে নিয়ম করে প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে পুরসভাকে দোকান ঘরের ভাড়া মেটান। আচমকা এই উচ্ছেদের নির্দেশে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের মুখে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্জি, প্রশাসন যেন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে।
একদিকে শহরকে যানজটমুক্ত ও সুন্দর করার প্রশাসনিক তাগিদ, অন্যদিকে রুটি-রুজির সংকটে পড়া সাধারণ ব্যবসায়ীদের কান্না– দুইয়ের টানাপোড়েনে আগামী দিনে বনগাঁর এই উচ্ছেদ অভিযান কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন