Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

দুর্নীতি রুখতে পঞ্চায়েত প্রধানদের হাত থেকে আর্থিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হতে পারে

 

Financial-powers-of-Panchayat-Pradhans

সমকালীন প্রতিবেদন : পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে রাজ্য প্রশাসন। লাগামছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে বীতশ্রদ্ধ হয়ে এবার কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে নবান্ন। সূত্রের খবর, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের হাত থেকে আর্থিক ক্ষমতা পুরোপুরি কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তার পরিবর্তে এই ক্ষমতা তুলে দেওয়া হতে পারে সরকারি আধিকারিক অর্থাৎ পঞ্চায়েতের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টদের হাতে। মূলত 'ওড়িশা মডেল'-কে সামনে রেখেই এই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার।

জানা গেছে, পঞ্চায়েত প্রধানদের ডানা ছাঁটতে পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইনে বড়সড় বদল আনা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করতে রাজ্য সরকার হয় অর্ডিন্যান্স জারি করতে পারে, অথবা আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে সংশোধনী বিল পেশ করতে পারে। উল্লেখ্য, এতদিন পর্যন্ত একশো দিনের কাজ (বর্তমানে ১২৫ দিনের কাজ) থেকে শুরু করে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তহবিল– সর্বত্রই টেন্ডার ডাকা এবং টাকা মঞ্জুর করার একচ্ছত্র ক্ষমতা ছিল পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে। 

বর্তমান শাসকদলের আমলে এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রেই পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বারবার। এমনকি, দুর্নীতির জেরেই একসময় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ১০০ দিনের কাজের টাকা দেওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও জব কার্ড হোল্ডারদের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যায়, তাও সেই টাকা ছাড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনের চাবিকাঠি থাকত প্রধানদের হাতেই। এবার সেই রাশ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন। ১২৫ দিনের কাজ শুরু হতেই এই কড়া পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক রদবদলের আবহে রাজ্যের শিল্প ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও বড় খবর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, আগামী দুর্গাপুজোর আগেই কলকাতায় আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত হাসপাতালের শিলান্যাস হতে পারে। নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২-তে এই বিশ্বমানের হাসপাতাল তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই ৫২ একর জমির খোঁজ মিলেছে। রাজ্য সরকার ও আদানি গোষ্ঠী যৌথভাবে এই জমিটি চিহ্নিত করেছে। নবান্ন সূত্রে খবর, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পরিকাঠামোগত নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই প্রকল্পের শিলান্যাস সম্পন্ন হবে।

প্রসঙ্গত, নিউ টাউনের বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালিতে আদানি গোষ্ঠীর একটি ডেটা সেন্টার এবং ‘বেঙ্গল টেক-পার্ক’-এর কাজ বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। এই দুটি প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই তাদের ৫৫ একর জমি বরাদ্দ করেছে রাজ্য। এবার চিকিৎসা ক্ষেত্রেও আদানির এই বিপুল বিনিয়োগ রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।‌ তবে এই হাসপাতাল সাধারণ মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত মানুষদের কতটা কাজে আসবে, সেটাই একটা বড় প্রশ্ন।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন