সমকালীন প্রতিবেদন : গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল নেত্রী তথা গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভানেত্রী ইলা বাগচী। রবিবার সকালে ঠাকুরনগরের বাবুপাড়া এলাকা থেকে গাইঘাটা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে ইলা বাগচীর ছেলে রাহুল বাগচীর সঙ্গে অর্পিতা বিশ্বাসের বিয়ে হয়। অর্পিতার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর লাগাতার অত্যাচার চালানো হতো। এমনকি গত ১৫ জুন ঠাকুরনগরের ষষ্ঠীতলা এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।
অর্পিতা দেবীর আরও দাবি, ইলা বাগচী নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় রাখার হুমকিও দিয়েছিলেন। এরপরই তিনি গাইঘাটা থানায় শাশুড়ি, স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে পুলিশ রবিবার সকালে প্রাক্তন সভানেত্রীকে গ্রেফতার করে।
এদিকে ইলা বাগচীকে থানায় নিয়ে আসার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা থানা চত্বরে জড়ো হয়ে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে ধৃত তৃণমূল নেত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেগ পেতে হয় এবং বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
পরে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি কর্মী সুধাময় দেব ও দীপঙ্কর দাসের অভিযোগ, "শুধু বধূ নির্যাতনই নয়, ওই তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক বেআইনি ও অসামাজিক কাজকর্মে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।"
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ইলা বাগচী। আদালতে যাওয়ার পথে তিনি দাবি করেন, "কী কারণে পুলিশ আমাকে থানায় আসতে বলেছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন।" ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গাইঘাটা থানার পুলিশ।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন