Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

ম্যাচ সংখ্যা বাড়িয়ে ২০২৮ থেকে আরও মেগা ফরম্যাটে আইপিএল? দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ছাঁটাই

 ‌

IPL-match

সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৬ সালের পর বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে ধনী টি-টোয়েন্টি লিগ ‘ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ’ আরও বড় আকার ধারণ করতে চলেছে। টুর্নামেন্টের ম্যাচের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার জন্য জোরদার পরিকল্পনা শুরু করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তবে ক্রিকেট বোর্ডের এই মেগা পরিকল্পনার জেরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চেনা ক্যালেন্ডারে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দাপটে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক স্তরের দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সংখ্যা অনেকটাই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ২০২২ সাল থেকে আইপিএল মোট ৭৪টি ম্যাচের ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু বিসিসিআই-এর অন্দরে এখন এই ম্যাচের সংখ্যা বাড়িয়ে ৯৪ করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে লিগে অংশ নেওয়া ১০টি দলই একে অপরের বিরুদ্ধে হোম ও অ্যাওয়ে– দুই ফরম্যাটেই খেলার সুযোগ পাবে। এর ফলে টুর্নামেন্টে একধাক্কায় প্রায় ২০টি ম্যাচ বাড়বে, যা স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটপ্রেমীদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেবে।

ম্যাচ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভারতীয় বোর্ডের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঠাসা ক্রীড়াসূচি বা ক্যালেন্ডার। আইসিসি-র নিজস্ব টুর্নামেন্ট, বিভিন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কারণে বছরের প্রায় প্রতিটি দিনই ক্রিকেট সূচি ব্যস্ত থাকে। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ২০টি ম্যাচের জন্য সময় বের করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।

বর্ষার মরশুম এড়াতে বিসিসিআই এখন বিকল্প উইন্ডোর কথা ভাবছে। বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, টুর্নামেন্টটি মার্চের প্রথম সপ্তাহে শুরু করা যেতে পারে, যাতে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই ৯৪টি ম্যাচ সফলভাবে শেষ করা যায়। সংবাদসংস্থা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিসিসিআই-এর এক শীর্ষ সূত্র জানিয়েছেন, “বর্তমান সময়ের সীমারেখায় ৯৪টি ম্যাচ আয়োজন করা অসম্ভব, কারণ মে মাসের পরেই দেশে বর্ষা নেমে আসে। তাই আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা আছে– হয় আমরা আইপিএল-কে দুটি ভাগে ভাগ করে খেলব, না হলে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে খেলা শুরু করে ১৫ মে-র মধ্যে পুরো টুর্নামেন্ট শেষ করব।”

বিসিসিআই-এর এই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলি সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে। ক্রিকেট মহলের মতে, বিশ্বজুড়ে এখন ছবিটা বদলে গিয়েছে। ক্রিকেট বোর্ডের অপর এক সূত্রের দাবি, বর্তমানে অধিকাংশ ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের নিজস্ব টি-টোয়েন্টি লিগ রয়েছে। ফলে আর্থিক লাভের জন্য তারা আর আগের মতো শুধু ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার ওপর নির্ভরশীল নয়। এই কারণে ভারতীয় বোর্ডও অলাভজনক কিছু দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কমিয়ে ফেলার কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবছে।

পাশাপাশি, সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলির মানসিকতাতেও বদল এসেছে। ক্রিকেট ভক্তদের একাংশ এখন আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ের চেয়ে ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট দেখতে বেশি পছন্দ করছেন। ফলে সম্প্রচারকেরাও আর আগের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে বিপুল আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৮ সালের আইপিএল মরশুম থেকেই ক্রিকেট দুনিয়া এক অভূতপূর্ব মেগা ফরম্যাটের সাক্ষী হতে পারে। তবে আইসিসি টুর্নামেন্ট এবং এশিয়া কাপের মতো বড় প্রতিযোগিতার কারণে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার যেভাবে দিন দিন আরও জটিল ও ব্যস্ত হয়ে উঠছে, তাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিসিসিআই-কে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে হবে। আপাতত চূড়ান্ত সিলমোহর না পড়লেও, বিশ্ব ক্রিকেটে যে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন