নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সোমবার সকালে প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং তার পরেই ইভিএমের ভোটগণনা শুরু হবে। সাধারণত দুপুর ১২টার মধ্যে কয়েক রাউন্ডের গণনা শেষ হয়ে যায়, যা থেকে জয়ের পাল্লা কোন দিকে ভারী হচ্ছে তার একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলে যায়। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি রাউন্ডেই চিত্র বদলাতে পারে। বিশেষ করে যেখানে দুই বা ততোধিক প্রার্থীর মধ্যে লড়াই তীব্র, সেখানে চূড়ান্ত ফল জানতে গভীর রাতও হতে পারে।
ভোটাররা তাদের রায় জানিয়েছেন ইভিএমের ব্যালট ও কন্ট্রোল ইউনিটের মাধ্যমে। সঙ্গে ছিল ভিভিপ্যাট মেশিন, যেখানে ভোটাররা নিজের ভোটটি সঠিক প্রার্থীর নামেই পড়ল কি না তা মিলিয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। ভোটদানের পর বুথ এজেন্টদের উপস্থিতিতে সিল করা সেই যন্ত্রগুলি এখন রয়েছে রিটার্নিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে। স্ট্রংরুমের এই দুর্ভেদ্য নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ২৪ জন জওয়ানের নিরন্তর পাহারার পাশাপাশি সিসিটিভির মাধ্যমে চলছে লাইভ নজরদারি। স্ট্রংরুমের দরজায় রয়েছে ‘ডবল লক সিস্টেম’ এবং প্রতিবার প্রবেশ ও প্রস্থানের খুঁটিনাটি তথ্য লিপিবদ্ধ হচ্ছে লগবুকে।
গণনার জন্য তৈরি করা হয়েছে পৃথক গণনাকক্ষ। প্রতিটি কক্ষের জন্য আলাদা যাতায়াতের পথ রাখা হয়েছে এবং এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে যাওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। কমিশনের কড়া নির্দেশ অনুসারে, গণনাকক্ষে শুধুমাত্র রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং স্টাফ, প্রার্থী বা তাঁদের অনুমোদিত এজেন্ট এবং পর্যবেক্ষকরাই প্রবেশ করতে পারবেন। সাধারণের প্রবেশ সেখানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গণনাকেন্দ্রের চারপাশে ১০০ মিটার এলাকাকে যানবাহনমুক্ত রাখা হচ্ছে। মোতায়েন থাকছে রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ত্রিস্তরীয় বেষ্টনী। প্রবেশের সময় প্রত্যেকের পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এবার পরিচয়পত্রের সঙ্গে কিউআর কোড যুক্ত করা হয়েছে, যা স্ক্যান করার পরেই প্রবেশের অনুমতি মিলবে। মোবাইল ফোন বা অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র রিটার্নিং অফিসার এবং পর্যবেক্ষকরাই বিশেষ প্রয়োজনে ফোন ব্যবহারের অনুমতি পাবেন।
গণনার পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিওগ্রাফি করা হবে। স্ট্রংরুম খোলা থেকে শুরু করে ইভিএম টেবিলে আনা এবং ফল ঘোষণা– সবটাই ক্যামেরাবন্দি করা হবে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে সাধারণত ১৪টি টেবিল থাকে। প্রতি রাউন্ডে ১৪টি টেবিলের গণনা শেষে ফল জানানো হবে। কন্ট্রোল ইউনিটের ‘রেজাল্ট’ বোতাম টিপলেই যখন প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট সামনে আসবে, তখন তা লিপিবদ্ধ করবেন আধিকারিকরা। শেষে লটারি মারফত নির্বাচিত বুথের ভিভিপ্যাট স্লিপ মিলিয়ে দেখা হবে কন্ট্রোল ইউনিটের তথ্যের সঙ্গে।
ভোটের চূড়ান্ত স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৭সি এবং ২০ নম্বর ফর্ম। ফর্ম ১৭সি-র মাধ্যমে প্রিসাইডিং অফিসারের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে গণনার হিসাব মেলানো হয়। যদি কোনো কারণে হিসাব না মেলে, তবে তৎক্ষণাৎ তা খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে, ফর্ম ২০ হল চূড়ান্ত রেজাল্ট শিট, যেখানে প্রতিটি বুথের ভোট থেকে শুরু করে নোটার প্রাপ্ত ভোট– সবকিছুর বিশদ হিসাব থাকে। এই ফর্মটি তৈরির মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে বাংলার মসনদে শেষ হাসি কে হাসবেন।
আগামী সোমবার সকাল থেকেই গোটা দেশের নজর থাকবে বাংলার দিকে। কেবল প্রার্থীরাই নন, রাজ্যের কোটি কোটি সাধারণ মানুষও এখন প্রহর গুনছেন তাদের দেওয়া রায়ের চূড়ান্ত পরিণতির জন্য। স্বচ্ছ এবং অবাধ গণনার লক্ষ্যেই এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে নির্বাচন কমিশন।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন