সমকালীন প্রতিবেদন : টুর্নামেন্টের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইপিএলের বাইশ গজে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। একদিকে যখন পঞ্জাব কিংস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং রাজস্থান রয়্যালসের প্লে-অফ ভাগ্য কার্যত সুনিশ্চিত, ঠিক তখনই পয়েন্ট তালিকার মাঝের ও শেষের সারিতে থাকা সাতটি দলের মধ্যে শুরু হয়েছে মরণ-বাঁচন লড়াই। এই মরণ-বাঁচন পরিস্থিতির মধ্যেই বড়সড় খবর, পারফরম্যান্সের ব্যর্থতা এবং দল পরিচালনায় অদক্ষতার দায়ে প্রতিযোগিতার মাঝপথেই অপসারিত হতে পারেন অন্তত চারটি দলের অধিনায়ক। ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষগুলি মনে করছে, নেতৃত্বে পরিবর্তন না আনলে চলতি মরসুমের প্লে-অফের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
দিল্লি ক্যাপিটালসের অবস্থা এই মুহূর্তে বেশ সঙ্গিন। দেশের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার অক্ষরের নেতৃত্বে দল আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ। ক্রিকেটার হিসেবেও অক্ষরের অবদান অত্যন্ত নগণ্য। ব্যাট হাতে মাত্র ৩১ রান এবং বল হাতে ৭টি উইকেট। বিশেষ করে পঞ্জাব ও বেঙ্গালুরুর কাছে হার এবং আরসিবির বিরুদ্ধে মাত্র ৭৫ রানে অল-আউট হওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ বাড়িয়ে দিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী দু’টি ম্যাচে পরিস্থিতি না পাল্টালে অক্ষরের বদলে অভিজ্ঞ লোকেশ রাহুলের হাতে নেতৃত্বের ভার তুলে দিতে পারে দিল্লি ম্যানেজমেন্ট।
পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকলেও রাজস্থান রয়্যালস অন্দরমহলে অস্বস্তি তুঙ্গে। অধিনায়ক রিয়ানের পারফরম্যান্স এবং সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া নিয়ে অসন্তুষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তারা। ১২.৫৭ গড়ে মাত্র ৮৮ রান করা রিয়ানকে কেন প্রথম একাদশে রাখা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যশস্বী জয়সওয়াল, ধ্রুব জুরেল কিংবা অভিজ্ঞ রবীন্দ্র জাডেজার মতো বিকল্প থাকায় রিয়ানকে সরিয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে রাজস্থান কর্তৃপক্ষ।
চেন্নাই সুপার কিংসেও রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ব্যাটে রানের খরা এবং ম্যাচ রিডিংয়ে দুর্বলতার কারণে তাঁর ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ১৮ কোটি টাকা দিয়ে কেনা সঞ্জু স্যামসন যখন দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন (দু’টি শতরান), তখন তাঁকে বসিয়ে রেখে রুতুরাজকে দিয়ে অধিনায়কত্ব চালানো যুক্তিহীন মনে করছেন কর্তারা। সঞ্জুর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় সিএসকে তাঁকেই তুরুপের তাস করতে চাইছে।
অন্যদিকে, কলকাতা নাইট রাইডার্সের অজিঙ্কা রাহানের অবস্থা সবথেকে করুণ। দল শেষ দু’টি ম্যাচে জিতলেও রাহানের ব্যক্তিগত ফর্ম এবং বোলিং পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কড়া সমালোচনা হচ্ছে। শেষ তিন ইনিংসের দু’টিতেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি। তরুণ তুর্কিদের সুযোগ না দেওয়া এবং ব্যর্থ ক্রিকেটারদের ওপর অতিরিক্ত ভরসা করায় ক্ষুব্ধ কেকেআর কর্তৃপক্ষ। টুর্নামেন্টে টিঁকে থাকতে মাঝপথেই রাহানের বদলে রিঙ্কু সিং এর হাতে নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড তুলে দেওয়া হতে পারে।
আইপিএলের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই চার দলের নেতৃত্বের পরিবর্তন কেবল সময়ের অপেক্ষা কি না, তা আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। প্রথম চারে জায়গা পাকা করতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি এখন ‘ঝুঁকি’ নিতেও পিছপা হচ্ছে না।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন