সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতার পালাবদলের চিত্র ধরা পড়ল। কোথাও 'শুদ্ধিকরণ' করে কলেজ দখল, আবার কোথাও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় রাতারাতি বদলে গেল বিজেপির অফিসে।
বাগদার হেলেঞ্চা বি আর আম্বেদকর শতবার্ষিকী কলেজে এদিন এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই কয়েক’শ এবিভিপি সমর্থক কলেজে প্রবেশ করেন। দীর্ঘদিন এই কলেজটি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দখলে ছিল। এদিন গেরুয়া শিবিরের ছাত্ররা ঘাসফুল শিবিরের দেওয়াল লিখন মুছে সেখানে গঙ্গাজল ছিটান। তাঁদের দাবি, এতদিন কলেজে যে অনিয়ম ও 'র্যাগিং' সংস্কৃতি চলেছে, গঙ্গাজল ছিটিয়ে তার শুদ্ধিকরণ করা হলো। এরপর কলেজের দেওয়ালে এবিভিপি-র পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং ক্যাম্পাসকে দুর্নীতিমুক্ত করার শপথ নেন সংগঠনের কর্মীরা।
অন্যদিকে, গাইঘাটার ধর্মপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সংলগ্ন ধর্মপুর বাজারে তৃণমূলের প্রধান দলীয় কার্যালয়টি আজ থেকে বিজেপির কার্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে তোলা হচ্ছে অফিসটি। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের দাবি, এই অফিসটি আদতে কংগ্রেসের ছিল, যা তৃণমূল ক্ষমতায় এসে জোরপূর্বক দখল করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কর্মীরা স্বেচ্ছায় অফিসটি তাঁদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।
তবে এই পালাবদলের প্রক্রিয়া সব জায়গায় শান্তিপূর্ণ থাকেনি। গাইঘাটা বিধানসভার অন্তর্গত বেড়গুম ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সিআরপিএফ এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
আইএনটিটিইউসির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে দেখা গেল, বোর্ড ভাঙচুর করে ফেলা হয়েছে। দরজায় বিজেপির বড় মাপের পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্যালয় তালাবন্ধ। গণনার পর থেকে বনগাঁ শহরের একাধিক কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, এই পরিস্থিতি অতিতের অন্যায় কার্যকলাপের প্রতিফলন।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, "রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই সাধারণ মানুষ ও ছাত্র সমাজ অপশাসনের হাত থেকে মুক্তি চাইছে। আমরা কোনো অশান্তি নয়, বরং স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়তে দায়বদ্ধ। অনেকক্ষেত্রে তৃণমূলেরই কেউ কেউ রাতারাতি জার্সি বদলে বিজেপি হওয়ার চেষ্টা করে ভিড়ে মিশে ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।"
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে যে ধস নেমেছে, এই ঘটনাপ্রবাহ তারই প্রতিফলন। তবে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন