সমকালীন প্রতিবেদন : আইপিএল-এর গ্রুপ পর্বের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে এবং প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করতে দলগুলি মরণপণ লড়াই চালাচ্ছে, ঠিক তখনই মাঠের বাইরের এক অন্ধকার দিক প্রকাশ্যে এল। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স ম্যাচকে কেন্দ্র করে টিকিটের কালোবাজারি ও নজিরবিহীন জালিয়াতির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল হায়দরাবাদ পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বিচারপতি ও মন্ত্রীদের নাম ভাঁড়িয়ে জাল নথির সাহায্যে টিকিট সংগ্রহ করে তা চড়া দামে বিক্রি করছিল।
তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে যে তথ্য এসেছে, তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করত। তারা হায়দরাবাদ ক্রিকেট সংস্থার কাছে নিজেদের ভিআইপি বা ভিভিআইপি হিসেবে পরিচয় দিত। শুধু তাই নয়, উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক, বিচারপতি, মন্ত্রী এমনকি রাজ্যপালের নাম এবং পদমর্যাদা ব্যবহার করে ভুয়ো লেটারহেড তৈরি করা হয়েছিল। সেই জাল নথির জোরেই তারা ক্রিকেট সংস্থার কাছ থেকে ভিআইপি কোটার টিকিট বাগিয়ে নিত।
গত ৩ মে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হায়দরাবাদ বনাম কলকাতার ম্যাচ ছিল। সেই ম্যাচকে ঘিরেই কালোবাজারি চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উপ্পল থানার পুলিশ স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। হায়দরাবাদ পুলিশের মালকাজগিরি কমিশনারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২২ হাজার টাকার মূল্যের টিকিট কয়েক গুণ বেশি দামে কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। হাতেনাতে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ধৃতদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত একটি ‘মাহিন্দ্রা থার’ গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও পাঁচটি আইপিএল টিকিট, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং প্রচুর পরিমাণ জাল নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ধৃতদের ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে ক্রিকেট সংস্থার কোনো অন্দরমহলের যোগসূত্র আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন, “এই ধরনের চক্র কেবল সাধারণ দর্শকদের আর্থিক প্রতারণাই করছে না, বরং খেলার স্বচ্ছতাকেও নষ্ট করছে। ভুয়ো পরিচয় দিয়ে সরকারি পদের অপব্যবহার করা একটি গুরুতর অপরাধ।” হায়দরাবাদ পুলিশের তরফে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে যে, কোনোভাবেই যেন বাইরের অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে টিকিট কেনা না হয়।
শুধুমাত্র স্বীকৃত এবং অফিসিয়াল টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম থেকেই টিকিট সংগ্রহ করতে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে আর্থিক প্রতারণা এবং আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে যখন আইপিএল নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে, তখন এই ধরনের গ্রেপ্তারি টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তার গলদকে ফের একবার সামনে এনে দিল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন