‘
সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যের মহিলা কল্যাণে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সূচনা হলো। রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার থেকে কার্যকর হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা’। বুধবার নবান্নে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকে এই নতুন প্রকল্পের আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য উপভোক্তারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। আগামী ১ জুন, ২০২৬ থেকে পূর্ণমাত্রায় এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে এবং তা টানা ৯০ দিন ধরে চলবে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনলাইন এবং অফলাইন– দুই মাধ্যমেই আবেদন করার সুযোগ পাবেন রাজ্যের মহিলারা। তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের তাড়াহুড়ো করার কোনো প্রয়োজন নেই। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, বিগত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের তালিকা নিয়ে বহু অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছিল। তাই এবার সম্পূর্ণ নতুনভাবে ‘ঝাড়াই-বাছাই’ করে একটি বিশুদ্ধ ও নিখুঁত উপভোক্তা তালিকা তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছিল, যাঁরা ইতিমধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা সরাসরি এই সুবিধা পাবেন কি না। এই বিষয়ে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকা থেকে কোনো নাম সরাসরি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে স্থানান্তরিত হবে না। নতুন প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে সকলকেই নতুন করে আবেদন করতে হবে।
তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, "যতদিন পর্যন্ত কোনো যোগ্য ব্যক্তি অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় না আসছেন, ততদিন তাঁর পুরোনো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা চালু থাকবে। নতুন প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত হওয়া মাত্রই পুরোনো সুবিধাটি বন্ধ হয়ে যাবে।" অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়মাবলী বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল– আবেদনকারী মহিলার বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক, কারণ সরাসরি ডিবিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।
আবেদনপত্রের ফর্মে পারিবারিক পরিচয়, রেশন কার্ড, পারিবারিক সম্পদ, আয় এবং পেশা সংক্রান্ত যাবতীয় বিবরণ নিখুঁতভাবে দিতে হবে। সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মূলত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলিকে স্বাবলম্বী করাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। তাই আয়করদাতারা এই প্রকল্পের যোগ্য নন। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার এবং কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীরা আবেদন করতে পারবেন না। রাজ্য সরকার অনুমোদিত শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মচারী এবং পুরসভা ও পঞ্চায়তের কর্মীরা এই প্রকল্পের সুবিধার বাইরে থাকবেন।
অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জালিয়াতি রুখতে কঠোর স্ক্রিনিং করা হবে। SIR-২০২৬ চলাকালীন চিহ্নিত মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার, বাদ পড়া ভোটার বা অনুপস্থিত ভোটারদের নাম এই তালিকা থেকে সরাসরি বাদ যাবে। এ ছাড়া খসড়া তালিকা ও শুনানির পর বাদ পড়া এবং ভোটার স্লিপ বিতরণের সময় অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের আবেদনও গ্রাহ্য হবে না।
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁরা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের সহায়তার জন্য সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। এই কাজে নবনির্বাচিত বিধায়কদেরও দায়বদ্ধ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ তারিখ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ 'জনকল্যাণ শিবির' আয়োজন করা হবে। সেখানে সাধারণ মানুষকে আবেদনপত্র পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি সহযোগিতা করা হবে।
ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র আপলোড করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে কতজন নতুন উপভোক্তা এই যোজনায় নাম নথিভুক্ত করছেন, তার খতিয়ান প্রতি সপ্তাহে সাংবাদিক বৈঠক করে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরবেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ১ জুন থেকে শুরু হতে চলা এই মেগা প্রকল্পকে ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে ব্যাপক তৎপরতা।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন