সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক হিংসার ইতিহাস সরিয়ে রেখে এ বার মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো ভোটগ্রহণ। শুধু শান্তি বজায় রাখাই নয়, ভোটদানের হারেও তৈরি হয়েছে নতুন বিশ্বরেকর্ড। রাত ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৩ শতাংশ।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে ভোটদানের হার এ বারই সর্বোচ্চ। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য দুই রাজ্যের প্রত্যেক ভোটারকে অভিনন্দন ও 'স্যালুট' জানিয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, যদিও চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে কিছুটা রদবদল হতে পারে, তবে প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী ৯২ শতাংশের গণ্ডি পার করা এক বিশাল প্রাপ্তি।
রাজ্যের ১৬টি জেলার মধ্যে সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরে (৯৫.২২%)। এর ঠিক পরেই রয়েছে কোচবিহার (৯৫.১৭%)। অন্যান্য জেলাগুলির পরিসংখ্যানও চোখে পড়ার মতো। বীরভূম: ৯৪.১৯%, জলপাইগুড়ি: ৯৪.০৯%, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা: ৯৩ শতাংশের উপরে, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম: ৯২ শতাংশের আশেপাশে। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে পাহাড়ি জেলা কালিম্পংয়ে (৮২.৯৯%), যা শতাংশের বিচারে কম হলেও ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজ্যের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া দিনভর বড় কোনো অশান্তির খবর মেলেনি। পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর তুলনায় এ বারের গোলমাল ছিল নগণ্য। বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিরবচ্ছিন্ন টহলদারি ও কড়া নজরদারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে।
ভোটদান শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, তীব্র গরমের কারণে কিছু জায়গায় ইভিএম বিকল হওয়ার খবর এলেও দ্রুত তা বদলে দেওয়া হয়েছে। কোনো বুথেই ৪-৬ ঘণ্টা ভোট বন্ধ থাকার মতো ঘটনা ঘটেনি। এ বারের নির্বাচনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল '১০০ শতাংশ ফুল প্রুফ' ওয়েবকাস্টিং। যেখানে বিদ্যুৎ ছিল না সেখানে জেনারেটর এবং যেখানে ইন্টারনেটের সমস্যা ছিল সেখানে 'সিম বেসড' ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর পরিস্থিতির তদারকি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর 'এরিয়া ডমিনেশন' বা এলাকায় দাপট বজায় রাখার কৌশলী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের এই নির্বাচন বাংলার গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হয়ে রইল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন