সমকালীন প্রতিবেদন : "হিন্দুদের ভোটের অধিকার সুনিশ্চিত করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। তাঁদের কাউকে আমরা এই দেশে বিদেশি হতে দেব না।"– বৃহস্পতিবার বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়ার সমর্থনে প্রচারে এসে এই ভাষাতেই রাজ্যের শাসকদলকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর সাফ ঘোষণা, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র মাধ্যমেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া হিন্দুদের নাম পুনরায় নথিভুক্ত করা হবে।
এদিন বনগাঁর ১ নম্বর রেলগেট থেকে ত্রিকোণ পার্ক পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য রোড শো-তে অংশ নেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। হুডখোলা গাড়িতে চড়ে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে তাঁকে পাশে নিয়ে প্রচার চালান তিনি। রাস্তার দু’ধারে জমায়েত হওয়া কর্মীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। এরপর ত্রিকোণ পার্ক সংলগ্ন একটি অস্থায়ী মঞ্চ থেকে জনসভার উদ্দেশে ভাষণ দেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং এনআরসি আতঙ্ক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন হিমন্ত। তিনি বলেন, এসআইআর বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত হিন্দুর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের সসম্মানে ফিরিয়ে আনা হবে।
এদিন সিএএ-র মাধ্যমে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে তিনি বলেন, হিন্দুদের সুরক্ষা নিয়ে তাঁদের চিন্তার প্রয়োজন নেই, কারণ "হিন্দুদের রক্ষা করার জন্য স্বয়ং ভগবান শ্রীরামচন্দ্র রয়েছেন।"
রাজ্যের শাসকদল কেন সিএএ-র বিরোধিতা করছে, সেই প্রশ্ন তুলে হিমন্ত বলেন, যদি তৃণমূল সত্যিই মানুষের ভালো চায়, তবে তাদের এই আইনকে সমর্থন করা উচিত। নাগরিকত্ব ইস্যুতে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
হিমন্ত বিশ্বশর্মা এদিন আরও বলেন, "হিন্দুদের পরিচয় ও অধিকার রক্ষায় বিজেপি বদ্ধপরিকর। আমরা সিএএ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি যোগ্য ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় তুলব এবং তাঁদের পূর্ণ মর্যাদা দেব।"
রাজনৈতিক মহলের মতে, মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁয় নাগরিকত্ব ইস্যুকে হাতিয়ার করে হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটের ঠিক মুখে সিএএ-কে তুরুপের তাস করে মতুয়া ও হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক সুসংহত করতেই গেরুয়া শিবির এই রণকৌশল নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন