সমকালীন প্রতিবেদন : বিধানসভা নির্বাচনের আবহে মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সোমবার কড়া অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মোথাবাড়ির এই নক্কারজনক ঘটনার তদন্তভার পুরোদমে সামলাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। একইসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের কাজ নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
এদিন শুনানির সময় মোথাবাড়ির ঘটনার একটি শিউরে ওঠা ভিডিও আদালতে পেশ করা হয়। সেই ভিডিওতে আক্রান্ত এক বিচারকের আতঙ্কিত আর্তনাদ শোনা যায়, যা দেখে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয় শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সাফ জানান, রাজ্য প্রশাসন যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
মালদহে সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় রাজ্য সরকার আদালতকে জানিয়েছে যে, ইতিমধ্যেই মোফাক্কেরুল ইসলাম ও শাহজাহান আলিসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ধৃত সমস্ত অভিযুক্তকে অবিলম্বে এনআইএ-র হেফাজতে তুলে দিতে হবে। মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নথি ও তথ্যপ্রমাণ কেন্দ্রীয় সংস্থাকে হস্তান্তর করতে হবে।
উল্লেখ্য, সোমবারই এনআইএ আদালতে একটি ২৫ পাতার প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে আক্রান্ত বিচারক এবং মোথাবাড়ি অঞ্চলের ২২ জন বুথ লেভেল অফিসারের বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, স্থানীয় পুলিশের বয়ানে বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে, যা প্রশাসনিক গাফিলতির দিকেই ইঙ্গিত করছে।
শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিআরপিএফ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গটিও উত্থাপন করা হয়। কমিশনের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লক্ষ্য করে করা এই ধরণের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে, যা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অন্তরায়।
ভোটের মুখে বিচারব্যবস্থার ওপর এই আক্রমণ এবং তাতে সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি হস্তক্ষেপ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করল। শীর্ষ আদালতের এই কড়া মনোভাবের পর মোথাবাড়ি কাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় আসবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এনআইএ-র পূর্ণাঙ্গ তদন্তে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, এখন সেটাই দেখার।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন