Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোট: মোদীর মুখে 'জয়ের হ্যাটট্রিক', অন্যদিকে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ মমতার

 

Modi-Mamata

সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে বুধবার সরগরম হয়ে উঠল জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতি। একদিকে উত্তরপ্রদেশের মাটি থেকে বাংলায় বিজেপির ‘বিপুল জয়ের’ পূর্বাভাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অন্যদিকে কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। ভোটকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের এই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে সরগরম বাংলার রাজনৈতিক মহল।

বুধবার উত্তরপ্রদেশের হরদইয়ে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিলান্যাস অনুষ্ঠান থেকে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বড় দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি ফের একবার নিজের আত্মবিশ্বাস জাহির করে বলেন, বিজেপি এবার ‘জয়ের হ্যাটট্রিক’ করতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটদানকে ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ হিসেবে অভিহিত করে মোদী বলেন, “বাংলা থেকে বিপুল উৎসাহের খবর আসছে। প্রথম দফার মতো মানুষ নির্ভয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। গত ছয়-সাত দশকে এমন দৃশ্য বিরল।”

প্রধানমন্ত্রী এদিন বিহার বিধানসভা এবং গুজরাতের স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দেন। তাঁর মতে, মানুষ যে উন্নয়নের পক্ষে সওয়াল করছেন, তার প্রমাণ গুজরাত নির্বাচনের ফলাফল। এদিন তিনি দাবি করেন, আগামী ৪ মে-র নির্বাচনী ফলাফল কেবল রাজনৈতিক জয় হবে না, বরং তা ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করবে।

প্রধানমন্ত্রীর যখন আত্মবিশ্বাসের সুর, তখন কলকাতার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিয়ে বেরোনোর সময় ক্ষোভ উগরে দেন মমতা ব্যানার্জী। বিকেল বেলা মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দেওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেত্রী সরাসরি আক্রমণ করেন নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। তাঁর অভিযোগ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নামে রাজ্যে কার্যত কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘রাজত্ব’ চলছে।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “এটা কি আদেও অবাধ নির্বাচন?” তাঁর দাবি, নদিয়া, আরামবাগ, খানাকুল এবং গোঘাটের মতো একাধিক জায়গায় তৃণমূলের এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং মহিলাদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। মমতা ব্যানার্জী এদিন আরও অভিযোগ করেন যে, পুলিশ অফিসারদের একটি বড় অংশ নিরপেক্ষতা হারিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করছেন এবং বিরোধী কর্মীদের অকারণে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাহিনীর কাজ সীমান্তে সুরক্ষা দেওয়া, বুথ দখল করা নয়।”

এদিন সকাল থেকেই ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন মমতা ব্যানার্জী। কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে চেতলায় ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দেখা করা থেকে শুরু করে চক্রবেড়িয়ায় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক– সবই তদারকি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে সারা দিন ‘ফিল্ডে’ থাকার ঘোষণা করেন তিনি। দিনের শেষে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেন নেত্রী।

তীব্র অভিযোগের মাঝেও জয়ের বিষয়ে কোনো সংশয় রাখছেন না মমতা ব্যানার্জী। আঙুলে ভিক্ট্রি চিহ্ন দেখিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “এত বাধা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তৃণমূলই জিতবে। আমরা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের সরকার গঠন করব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার এই ভোট একদিকে যেমন মোদীর ‘উন্নয়ন ও পরিবর্তনের’ সওয়াল, অন্যদিকে মমতার ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’। প্রধানমন্ত্রী যেখানে জাতীয় রাজনীতির সাফল্যের ধারা বাংলায় বজায় রাখার দাবি করছেন, মমতা সেখানে আঞ্চলিক আবেগ ও উন্নয়নকে হাতিয়ার করে ক্ষমতার হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন দেখছেন। এখন দেখার, ৪ মে-র ইভিএম বাক্স শেষ পর্যন্ত কার পক্ষ নেয়।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন