Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

ভোটের দিনই দুর্যোগের ভ্রুকুটি: রাজ্যজুড়ে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী

 

Kalbaishakhi-is-bearing-down

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌বঙ্গে রাজনীতির পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভোলবদল প্রকৃতির। তীব্র দাবদাহ আর প্যাচপ্যাচে গরমের অবসান ঘটিয়ে এবার দুর্যোগের ভ্রুকুটি নিয়ে হাজির হচ্ছে আবহাওয়া। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ঠিক আগেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির দাপট শুরু হতে চলেছে। কেবল সাধারণ বৃষ্টি নয়, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কালবৈশাখী এবং বেশ কিছু জেলায় শিলাবৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। 

আগামী চার দিন গোটা রাজ্যজুড়েই এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তিলোত্তমা কলকাতায় আগামীকাল বুধবার ও পরশু বৃহস্পতিবার কালবৈশাখীর তাণ্ডব চলার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের অনুমান, ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে এই বৃষ্টির হাত ধরে একধাক্কায় কলকাতার তাপমাত্রা ৩-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস নামতে পারে, যা দীর্ঘদিনের হাঁসফাঁসানি গরম থেকে শহরবাসীকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। 

কিন্তু এই স্বস্তির সঙ্গেই মিশে থাকছে ভোটের দিনে বিপত্তির আশঙ্কা। আবহাওয়া দফতরের ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার নির্বাচনের দিন ভোটারদের সম্ভবত ভিজে গায়েই বুথে যেতে হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কালবৈশাখীর সঙ্গে শিলাবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। 

পূর্ব বর্ধমান ও তার সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার। অর্থাৎ, একদিকে রাজনৈতিক লড়াই আর অন্যদিকে প্রকৃতির তাণ্ডব– দুই মিলিয়ে ভোটগ্রহণের দিনটি প্রশাসনের কাছে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে চলেছে। আজ মঙ্গলবার থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হয়েছে। 

নির্বাচনের আগের দিন আজ নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং দুই ২৪ পরগনায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আগামীকাল বুধবার অর্থাৎ ভোটের দিন সেই তীব্রতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া ও হুগলিতে ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ভ্রুকুটি রয়েছে।

ভোট মিটে যাওয়ার পরও স্বস্তির লক্ষণ নেই। বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পুরো দক্ষিণবঙ্গেই বিক্ষিপ্তভাবে এই ঝড়-বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা দক্ষিণবঙ্গের চেয়েও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। 

চলতি সপ্তাহজুড়ে দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে, যার ফলে পাহাড় ও ডুয়ার্সের তাপমাত্রা প্রায় ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। সব মিলিয়ে, ভোটের মরসুমে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ জনজীবন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন