সমকালীন প্রতিবেদন : আইপিএলের শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি কলকাতা নাইট রাইডার্সের। প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয়ের পর লিগ টেবিলের ৯ নম্বরে থাকা নাইটদের সামনে এখন পাহাড়প্রমাণ চাপ। সোমবার ইডেন গার্ডেন্সে শক্তিশালী পাঞ্জাব কিংসের মুখোমুখি হওয়ার আগে দলের অন্দরের ফাটলগুলো ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। বোলিংয়ের ধারহীনতা, মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলা এবং বিকল্প পরিকল্পনার অভাব– সব মিলিয়ে বেশ অস্বস্তিতে নাইট শিবির। রবিবার ম্যাচের আগের সাংবাদিক সম্মেলনে দলের বোলিং কোচ টিম সাউদিও খুব একটা আত্মবিশ্বাসের সুর শোনাতে পারলেন না।
কেকেআর সমর্থকদের সবথেকে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের বোলিং বিভাগ। বিশেষ করে অভিজ্ঞ স্পিন জুটি সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তীর পারফরম্যান্স প্রশ্নের মুখে। গত দুই ম্যাচে তাঁরা নিজেদের কোটার পুরো ওভার যেমন করতে পারেননি, তেমনই দুজনে মিলে ঝুলিতে পুরেছেন মাত্র একটি উইকেট।
এই প্রসঙ্গে সাউদি বলেন, “ওয়াংখেড়ে বা ইডেনের মতো মাঠে প্রচুর রান ওঠে। তবে আমাদের স্পিনারদের ওপর পূর্ণ আস্থা আছে। অতীতে তাঁরা বারবার নিজেদের প্রমাণ করেছেন, তাই পরের ম্যাচগুলোতে তাঁরা ছন্দে ফিরবেন বলেই বিশ্বাস।” অন্যদিকে, পেস বোলিং বিভাগ যে অনভিজ্ঞতায় ভুগছে, তা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন এই প্রাক্তন কিউয়ি তারকা।
তবে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এখনও ইতিবাচক এবং জয় পেলেই দল ছন্দে ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নাইট শিবিরে বর্তমানে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের বোলিং। কেন তাঁকে বল করানো হচ্ছে না, তা নিয়ে ম্যানেজমেন্টকে বারবার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
যদিও অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে এর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কড়াকড়ির ওপর দায় চাপিয়েছিলেন, তবে সাউদি এদিন কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পাঞ্জাব ম্যাচ থেকেই গ্রিনকে বল হাতে দেখা যেতে পারে। সাউদির মতে, “হঠাৎ করে কেউ ম্যাচে বল করতে পারে না, তাই ওর ফিটনেস নিয়ে আমরা কাজ করছি। অস্ট্রেলিয়ার বোর্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।” গ্রিন বল করলে দলের ভারসাম্য ফিরবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
পাওয়ার প্লে-তে উইকেট তুলতে না পারা এবং ডেথ ওভারে প্রচুর রান বিলিয়ে দেওয়া— এই দুই সমস্যায় জর্জরিত কেকেআর। অথচ সোমবারের ম্যাচেও প্রথম একাদশে বড়সড় বদলের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। রাচীন রবীন্দ্র বা রভম্যান পাওযেলের মতো বিকল্প ক্রিকেটাররা ডাগআউটে থাকলেও, সাউদির কথায় তাঁদের খেলানোর বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ম্যাচের রাশ মাঝপথে আলগা হয়ে যাওয়া এবং ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা ঢাকতে নাইটদের তথাকথিত ‘প্ল্যান বি’ এখনও অধরা।
অন্যদিকে, পাঞ্জাব কিংসের নেতা শ্রেয়স আইয়ার টানা দুই ম্যাচ জিতে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে হারলে প্লে-অফের দৌড় থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়বেন রাহানেরা। এখন দেখার, ঘরের মাঠে নিজেদের চেনা পরিবেশে কেকেআর ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, নাকি হারের হ্যাটট্রিক করে লিগ টেবিলের তলানিতেই পড়ে থাকে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন