সমকালীন প্রতিবেদন : বাংলায় প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন মিটতে না মিটতেই যুযুধান দুই শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। একদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রথম দফার ট্রেন্ড দেখে নিজের দলের জয় নিশ্চিত বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছেন, বাংলায় এবার ভয়ের বদলে ভরসার জয় হতে চলেছে।
বৃহস্পতিবার বৌবাজারের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে, প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই তৃণমূল জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। জনমানসের মানসিকতা বিশ্লেষণ করে তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা ভাষা বলে দিচ্ছে তাঁরা তৃণমূলের পক্ষেই রায় দিয়েছেন।
ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর সতর্কবার্তা, তৃণমূলকে ভোট না দিলে মানুষের "আমও যাবে, ছালাও যাবে"। অর্থাৎ এনআরসি বা ডিলিমিটেশনের গেরোয় সাধারণ মানুষ তাঁদের সম্পত্তি ও ঠিকানা হারাবেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি দাবি করেন, ষড়যন্ত্র করে বহু মানুষের নাম কাটার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তাঁর সরকার ৩২ লক্ষ মানুষের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাঁদের 'রক্ষাকবচ' প্রদান করেছে।
একই দিনে কৃষ্ণনগর ও মথুরাপুরে জোড়া সভা থেকে মমতার সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনে তুলনামূলক কম হিংসা হওয়া নিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনকে সাধুবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাংলায় এমন হিংসাহীন ভোট তিনি আগে দেখেননি। মানুষ এবার নির্ভয়ে ভোট দিতে পারছেন।
মোদীর মতে, বাংলার নতুন প্রজন্ম আর ভয় পেতে রাজি নয়। তিনি বলেন, "ভয় হারছে এবং ভরসা জিতছে।" আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটবে এবং বাংলায় নতুন রাজনৈতিক সূর্যোদয় হবে বলে তিনি দাবি করেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার আগেই দুই হেভিওয়েট নেতার এই দাবি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে এনআরসি এবং অধিকার হারানোর ভয় দেখিয়ে তৃণমূল কর্মীদের চাঙ্গা করতে চেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সেখানে সুশাসন এবং হিংসামুক্ত বাংলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেছেন। সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোট মিটতেই বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন