সমকালীন প্রতিবেদন : শেষ হলো ২০২৬-এর বঙ্গযুদ্ধের ভোটগ্রহণ পর্ব। বুধবার রাজ্যের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট মিটতেই শুরু হয়ে গিয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নীলবাড়ির লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন? মমতা ব্যানার্জীর হ্যাটট্রিক নাকি বঙ্গে প্রথমবার পদ্ম-বিজয়– এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের প্রতিটি অলিতে-গলিতে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’ সামনে আসতেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।
তবে সমীক্ষার ফল কোনো একটি নির্দিষ্ট দিকে ঝুঁকে নেই। বরং জনমতের এক রোমাঞ্চকর ও বিভ্রান্তিকর ছবি উঠে আসছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৭। সরকার গড়তে যে কোনো পক্ষকে অন্তত ১৪৮টি আসন পেতে হবে। একাধিক সমীক্ষায় বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত থাকলেও, তৃণমূলের পাল্লা ভারী দেখিয়েছে বেশ কিছু সংস্থা।
বিজেপির অনুকূলে: * পি-মার্ক: তাদের মতে বিজেপি পেতে পারে ১৫০-১৭৫টি আসন, যেখানে তৃণমূল আটকে যেতে পারে ১১৮-১৩৮-এ।
চাণক্য ও ম্যাট্রিজ: এই দুই সংস্থাই বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে। চাণক্যের মতে বিজেপি ১৫০-১৬০টি আসন পেতে পারে। ম্যাট্রিজ বলছে বিজেপি ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ১৪৬-১৬১টি আসন পাওয়ার দৌড়ে রয়েছে। প্রজা পোল ও পোল ডায়েরি: এই দুই সংস্থা বিজেপিকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে। প্রজা পোলের হিসেবে গেরুয়া শিবির ১৭৮-২০৮টি আসন পেতে পারে।
আর তৃণমূলের অনুকূলে: পিপলস পালস: বাকিদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছবি দেখিয়েছে এই সংস্থা। তাদের দাবি, তৃণমূল ১৭৮-১৮৯টি আসন নিয়ে বিপুলভাবে ক্ষমতায় ফিরবে, যেখানে বিজেপি ১০০-র নিচে (৯৫-১১০) থমকে যাবে।
জনমত পোল্স: এই সমীক্ষাতেও মমতা ব্যানার্জীর দলকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্য দেওয়া হয়েছে (১৯৫-২০৫)।
সবকটি বুথফেরত সমীক্ষায় একটি বিষয়ে ঐকমত্য দেখা গেছে– তা হলো বাম-কংগ্রেস বা সংযুক্ত মোর্চার শোচনীয় অবস্থা। অধিকাংশ সংস্থাই তাদের আসন সংখ্যা শূন্য থেকে বড়জোর ৩-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। অর্থাৎ বাংলার লড়াই এবারও দ্বিমুখী হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল ১৫২টি এবং বুধবার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের পর ভোটদানের হার নজির গড়েছে। রাজ্যে এবার গড় ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কার পালে হাওয়া দেয়, সেটাই এখন দেখার।
নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, এক্সিট পোল সবসময় চূড়ান্ত ফলের সঙ্গে মেলে না। অনেক সময় মানুষের আসল রায় সমীক্ষাকে ভুল প্রমাণ করে। এই সমীক্ষাগুলো কেবল লড়াইয়ের তীব্রতা ও একটি সম্ভাব্য আভাস দেয় মাত্র। তৃণমূল শিবির যেমন 'দুই-তৃতীয়াংশ' সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, বিজেপিও তেমনি 'ঐতিহাসিক জয়ে'র আশায় বুক বাঁধছে।
আগামী ৪ মে রাজ্যের ভোটগণনা। সেদিনই ইভিএম খুললে স্পষ্ট হবে বাংলার রায় শেষ পর্যন্ত কার দিকে গেল– মমতা ব্যানার্জীর 'দিদি' ম্যাজিক নাকি নরেন্দ্র মোদীর 'বিকাশ'। ৪ মে-র চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য তথা দেশ।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন