Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

বনগাঁয় গুরুত্বপূর্ণ সর্বদলীয় বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

 ‌

Chief-Electoral-Officer

সমকালীন প্রতিবেদন : লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ‌কাজ শুরু হওয়ার আগেই রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। শনিবার বনগাঁয় এক গুরুত্বপূর্ণ সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। মূলত আরামবাগ, বনগাঁ, সন্দেশখালি ও ব্যারাকপুরের মতো রাজনৈতিকভাবে অতিস্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোর নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়।

অতীতের নির্বাচনগুলোতে দেখা গিয়েছে, আরামবাগ থেকে শুরু করে সন্দেশখালি পর্যন্ত এলাকাগুলোতে ভোটের দিন হিংসা ও অশান্তির একাধিক নজির রয়েছে। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার আগেভাগেই সক্রিয় কমিশন। বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে স্থানীয় সমস্যা ও আশঙ্কার কথা শোনেন মনোজ কুমার আগরওয়াল। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই যে কমিশনের মূল লক্ষ্য, তা তিনি স্পষ্ট করে দেন।

প্রথম দফার নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় কমিশন যে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন, তা এদিনের বৈঠক শেষে সিইও-র কথাতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কড়া ভাষায় জানান, "প্রথম দফায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর যে আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যদি ইউনিফর্ম পরা কোনো জওয়ানের ওপর হামলা হয়, তবে কমিশন দ্রুত এবং কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।"

এদিন তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহনে জেলার সংখ্যা এবং বুথের সংখ্যা তুলনায় কম। এই দফায় কোনওরকম গোলমাল এড়াতে যেখানে যেখানে ইতিমধ্যেই ভোট হয়ে গেছে, সেখান থেকে অতিরিক্ত বাহিনী দ্বিতীয় দফার ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে। কোনওরকম গোলমাল বরদাস্ত করা হবে না।

এদিনের সমন্বয় বৈঠকে চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আরামবাগ, বনগাঁ, সন্দেশখালি ও ব্যারাকপুর এর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার কড়া বার্তা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফার ভোটে স্পর্শকাতর বুথগুলোতে বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং কড়া নজরদারির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা এবং বাহিনীর ওপর আক্রমণে 'জিরো টলারেন্স' নীতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কতটা আত্মবিশ্বাস ফেরাতে পারে, এখন সেটাই দেখার। দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করাই এখন রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকের প্রধান চ্যালেঞ্জ।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন