সমকালীন প্রতিবেদন : দীর্ঘ ছয় ম্যাচের পরাজয়ের বৃত্ত ভেঙে অবশেষে জয়ের মুখ দেখেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ঘরের মাঠে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয় এলেও নাইট শিবিরের আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই। বরং পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিয়ে চিন্তিত টিম ম্যানেজমেন্ট। রবিবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তাই দলে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই– জয়ের ধারা বজায় রেখে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করা।
গত কয়েকদিনের বিশ্রাম কাটিয়ে বুধবারই লখনউ পৌঁছে গিয়েছে কেকেআর বাহিনী। বৃহস্পতিবার থেকেই একনা স্টেডিয়ামের অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন ক্যামেরন গ্রিন, শ্রেয়স আইয়াররা। লখনউয়ের আবহাওয়া এবং পিচের কন্ডিশন মাথায় রেখে বিশেষ রণকৌশল সাজাচ্ছেন কোচ ও অধিনায়ক।
দলের সবথেকে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কিউই ক্রিকেটার টিম সাইফার্টের ফর্ম। ফিন অ্যালেনের বিকল্প হিসেবে তাঁকে দলে নেওয়া হলেও গত দুই ম্যাচে তিনি চূড়ান্ত ব্যর্থ। সূত্রের খবর, সাইফার্টের জায়গায় আর এক নিউজিল্যান্ড তারকা রাচীন রবীন্দ্রকে খেলানোর কথা ভাবছে ম্যানেজমেন্ট। রাচীনের অন্তর্ভুক্তিতে টপ অর্ডারে স্থায়িত্ব যেমন আসবে, তেমনই বল হাতেও তিনি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেন।
কেকেআর শিবিরের জন্য সুখবর হল, চোট সারিয়ে পুরোদমে ফিট হয়ে উঠেছেন মাথিশা পাথিরানা। লখনউয়ের গতিময় পিচে পাথিরানার ‘ডেথ ওভার’ বোলিং তুরুপের তাস হতে পারে। কিন্তু তাঁকে খেলাতে গেলে কাকে বসানো হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি কোটায় রভম্যান পাওয়েল খেলছেন। পাওয়েলকে বসিয়ে পাথিরানাকে নিলে দলের ব্যাটিং গভীরতা অনেকটাই কমে যাবে। এমনিতেই এই মরসুমে নাইটদের ব্যাটিং অর্ডারের যা কঙ্কালসার দশা, তাতে ব্যাটিং শক্তি কমাতে চাইছেন না কোচ অভিষেক নায়ার।
লখনউয়ের উইকেট সাধারণত পেসারদের বাড়তি সুবিধা দিয়ে থাকে। সেই কথা মাথায় রেখে একজন স্পিনার কমিয়ে অতিরিক্ত ভারতীয় ব্যাটার খেলানোর একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে স্পিনার বাছাই নিয়ে। গত ম্যাচে বরুণ চক্রবর্তী নিজের জাত চিনিয়েছেন, আবার অনুকূল রায় বর্তমানে দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে ভরসা দিচ্ছেন।
এই অবস্থায় অভিজ্ঞ বরুণ নাকি নির্ভরযোগ্য অনুকূল– কাকে সাইডলাইনে রাখা হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত দোটানায় কেকেআর থিঙ্কট্যাঙ্ক। রবিবার লখনউয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে নাইটরা কি অল-আউট পেস আক্রমণে যাবে, নাকি ব্যাটিং শক্তি ধরে রাখতেই বেশি মনোযোগী হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কেকেআর ভক্তরা আশা করছেন, একাদশে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে নিয়ে মাঠ ছাড়বে তাঁদের প্রিয় দল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন